রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এবার সেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকাতেও। গভীর রাতে হঠাৎ বুলডোজার নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বাজার চত্বরে ঢুকে একের পর এক দোকান ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় শাসকদলের একটি স্থানীয় কার্যালয়ও। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে।
এই ঘটনায় এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কয়েকজন আবেদনকারী। তাঁদের অভিযোগ, শুধু নিউ মার্কেট নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসা, ভাঙচুর এবং মনীষীদের মূর্তি নষ্ট করার ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে আদালতের কাছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত আদালতের নজরদারিতে করার দাবিও তোলা হয়েছে।
বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করেছে। জানা গিয়েছে, আগামীকাল এই মামলার শুনানি হতে পারে। ফলে ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি আইনি ক্ষেত্রেও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার রাতে নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গভীর রাতে আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখেন, বিশাল বুলডোজার নিয়ে কয়েকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে একাধিক দোকান ভেঙে ফেলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও অভিযুক্তদের কাউকে তখন আর ধরা যায়নি বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শাসকদলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল বলেই দাবি করেছে তারা।
ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট এলাকায় এমন বেনজির হামলার ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এখন নজর আদালতের দিকে—এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কী বার্তা দেয় উচ্চ আদালত, সেটাই

No comments:
Post a Comment