'পাকিস্তানই অনুরোধ করেছিল', অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে প্রাক্তন ডিজিএমও - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, May 7, 2026

'পাকিস্তানই অনুরোধ করেছিল', অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে প্রাক্তন ডিজিএমও


ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৭ মে ২০২৬: অপারেশন সিঁদুরের প্রথম বর্ষপূর্তি। প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিএমও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই এটিকে ভারতের কৌশলগত যাত্রার একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুর শুধু একটি সামরিক অভিযান ছিল না বরং সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছিল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই জানান, এই অভিযান চলাকালে পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটি এবং ৯টি প্রধান সন্ত্রাসী শিবিরকে নিশানা করা হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো হয়। তিনি বলেন, ভারত তার কোনও সামরিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, সে সময় পাকিস্তান নিজেই অভিযানটি বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছিল।


জয়পুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর' চলাকালীন ৯ টি স্ট্যান্ডঅফ প্রিসিজন স্ট্রাইক চালানো হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং দুটি ভারতীয় বিমান বাহিনী চালিয়েছে। তিনি এই অভিযানের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন ব্রহ্মোস ও আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রসহ দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং নজরদারি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে। তিনি বলেন, "এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে আত্মনির্ভর ভারত শুধু একটি স্লোগান নয় বরং এটি শক্তি বৃদ্ধির একটি অস্ত্র। এই অভিযানে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র—সব ক্ষেত্রের সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।"


তিনি বলেন যে, "অপারেশন সিঁদুর ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের শেষ নয় বরং কেবলমাত্র শুরু।" তিনি আরও বলেন যে, ভারত তার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণকে দৃঢ়ভাবে, পেশাদারিত্বের সাথে এবং পূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে রক্ষা করে যাবে।


অপারেশন সিঁদুরের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো। এই অভিযানে শতাধিক সন্ত্রাসী নিকেশ হয়। পাকিস্তান ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান ব্যবহার করে হামলা চালালেও ভারত রাডার ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে কঠোর পাল্টা জবাব দেয়। ১০ই মে, পাকিস্তানের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিএমও) ভারতের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সংঘাতের অবসান ঘটাতে সম্মত হন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঘাই বলেন, অপারেশন সিঁদুর এখন বিশ্বব্যাপী সামরিক ও কৌশলগত পরিকল্পনার 'স্বর্ণমান' হিসেবে বিবেচিত হয়।


উল্লেখ্য, গত বছর ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা হয়। ২৬ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মম ভাবে খুন করা হয়। এমনকি মারার আগে তাঁদের ধর্ম পর্যন্ত জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সেই হামলার পাল্টা জবাবে ৭ মে অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে ভারত সরকার। পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি। আজ অপারেশন সিঁদুরের এক বছর পূর্ণ হল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad