রাজ্যে ভোট-পরবর্তী অশান্তির আবহে ফের উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি। জনকা গ্রামপঞ্চায়েতের পশ্চিম ভাঙ্গান মারি এলাকায় সোমবার গভীর রাতে আগুনে পুড়ে যায় অন্তত দশটি দোকান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও আগুন লাগানো এবং ভাঙচুর রোখা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে খেজুরির অগ্নিকাণ্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি কটাক্ষ করেন, বাংলা নাকি এখন “ডবল ইঞ্জিন সরকার” নয়, “ডবল ইঞ্জিন বিপর্যয়”-এর চেহারা দেখতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে দোকানগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে বহু মানুষের রুজিরুটির একমাত্র ভরসা ছাই হয়ে যায়। ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি রাজ্যে ভয় এবং ঘৃণার রাজনীতি চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভাজনের রাজনীতির ফলেই এ ধরনের হিংসার ঘটনা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের সময় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও এমন ঘটনার সময় তাদের সক্রিয় দেখা যায় না।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দিনের আলোয় যদি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা কোথায়? পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।
এর আগেও খেজুরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া বাংলার সামাজিক সম্প্রীতির উপর সরাসরি আঘাত। তাঁর প্রশ্ন ছিল, ভয় দেখিয়ে কি বাংলাকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে?

No comments:
Post a Comment