“১০০ বছর পর যখন আমার নাতি-নাতনিরা ভারতে আসবে…” দিল্লিতে কেন এমন বললেন মার্কো রুবিও? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, May 24, 2026

“১০০ বছর পর যখন আমার নাতি-নাতনিরা ভারতে আসবে…” দিল্লিতে কেন এমন বললেন মার্কো রুবিও?


 আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর চার দিনের ভারত সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই সফরে তিনি নয়াদিল্লি-সহ দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর পরিদর্শন করছেন। ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আরও মজবুত করা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত সহযোগিতা নিয়েই মূলত এই সফরের মূল আলোচনা চলছে।

সফরের শুরুতেই নয়াদিল্লিতে আমেরিকার দূতাবাসের নতুন কনস্যুলার উইং ও সাপোর্ট অ্যানেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন মার্কো রুবিও। অনুষ্ঠানে তাঁকে বেশ আবেগঘন ও হাস্যরসাত্মক মেজাজে দেখা যায়। নতুন ভবনের সামনে লাগানো স্মারক ফলকের আবরণ সরানোর পর তিনি হেসে বলেন, “এটাই আমার জীবনের প্রথম ফলক। তাই আজ থেকে একশো বছর পরে যখন আমার নাতি-নাতনিরা ভারত ভ্রমণে আসবে, তখন তারা এই ফলক দেখে গর্ব অনুভব করবে।”

রুবিওর এই মন্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। একইসঙ্গে ভারত সম্পর্কে তাঁর আবেগ ও উচ্ছ্বাসও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতাকেই আরও স্পষ্ট করে।

বিদেশমন্ত্রী হিসেবে এটিই মার্কো রুবিওর প্রথম ভারত সফর। তাই এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। সেই আবহে এই সফরকে ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেন মার্কো রুবিও। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চার দেশের কৌশলগত জোটের বৈঠক। ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত এই জোট বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে রুবিওর সফরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত সফরের ফাঁকে মার্কো রুবিও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর সফরসূচিতে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর এই ভারত সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad