ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকায় আজও পৌঁছয়নি উন্নয়নের ছোঁয়া। পাকা সেতুর অভাবে প্রাণ হাতে নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন বহু মানুষ। প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ বাড়ছে বাঁশপাহাড়ি অঞ্চলে। তবে, নতুন সরকারের আমলে আশার আলো দেখছেন গ্ৰামীণরা।
বাঁশপাহাড়ি এলাকার খেড়িয়ারাতা, দেশমূল-সহ প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রশাসনের তরফে কোনও উদ্যোগ না মেলায় বাধ্য হয়ে নিজেদের টাকায় ওই সাঁকো তৈরি করেছিলেন গ্রামবাসীরাই। তবে, বর্তমানে সেই সাঁকো জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, রোগী ও নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। সামান্য অসতর্ক হলেই ঘটতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
প্রতি বছর জলের তোড়ে ভেসে যায় খালের উপর থাকা অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোটি। তখন বাঁশপাহাড়ির সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ১০-১২টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবী, গ্রামে কোনও উন্নয়ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের কাছে দাবী জানানো হলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। তবে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর কিছুটা আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের আশা, বর্ষা পুরোপুরি নামার আগেই দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণে উদ্যোগী হবে প্রশাসন এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে জঙ্গলমহলের এই অবহেলিত গ্রামগুলির।
এই বিষয়ে বিনপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, 'এরকম সমস্যা অনেক গ্ৰামেই রয়েছে। আমরা এটা অবশ্যই দেখব এবং পাকা সেতু বানাব।' তার দাবি বিগত সরকারের আমলে সেতু, রাস্তা কোনটিই ঠিকভাবে হয়নি। তিনি বলেন, 'গত ১৫ বছরে তৃণমূলের আমলে এইসব দরকারি ছোট সেতু বা রাস্তা কিছুই বানানো হয়নি। আমাদের তরফ থেকে সেগুলো বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।'

No comments:
Post a Comment