মমতা সরকারের পতন! ১৪ বছর পর চুল-দাড়ি কেটে প্রতিজ্ঞা পূরণ প্রৌঢ়ের, মহাভোজের আয়োজন - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, May 10, 2026

মমতা সরকারের পতন! ১৪ বছর পর চুল-দাড়ি কেটে প্রতিজ্ঞা পূরণ প্রৌঢ়ের, মহাভোজের আয়োজন


উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি। আর নতুন সরকার আসতেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন ৬৩ বছরের প্রৌঢ় আশুতোষ পাল ওরফে তুলসী। শুধু তাই নয়, রীতিমতো মহাভোজের আয়োজন করা হয় এই উপলক্ষে। 


সকলের কাছে তিনি পরিচিত তুলসী কাকা নামে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতনে দীর্ঘ ১৪ বছর পর চুল-দাড়ি কেটে তাঁর সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করলেন বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া থানার রামচন্দ্রপুর উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসপুর গ্রামের আশুতোষ পাল। পেশায় তিনি চায়ের দোকানদার। কিন্তু কী ছিল আশুতোষের প্রতিজ্ঞা? 


সক্রিয় বাম সমর্থক আশুতোষের কথায়, "২০১১-র পালা বদলের পর একটি ঘটনা আমার মনে দাগ কেটে যায়। দুষ্কৃতীরাজকে তৃণমূল সরকার কীভাবে প্রশ্রয় দেয় সেই ঘটনা সেসময় খবরে দেখা। কলকাতার একজন গুণ্ডাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থানায় গিয়ে সেই দুষ্কৃতীকে ছাড়িয়ে আনেন। এরপর থেকেই আমার আশঙ্কা হয়েছিল, এই সরকার রাজ্যে আইনের শাসনের সরকার হতে পারে না। সেদিনই আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, যতদিন মমতা সরকারের পতন না হবে, আমার এই চুল-দাড়ি কাটব না। আজ ১৫ বছর ধরে অপশাসনে বিরক্ত মানুষ যে দলের মাধ্যমেই তাকে হটাক না কেন, আজ আমার সেই প্রতিজ্ঞা পূরণের দিন।"


তিনি বলেন, "রবিবার বেলা ১১ টায় রামচন্দ্রপুর বাজারে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমার দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে না কাটা চুল-দাড়ি কেটে সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করলাম। এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন একদা এলাকার বিধায়ক মহম্মদ সেলিম, বর্তমান স্বরূপনগরের বিধায়ক পদপ্রার্থী বিশ্বজিৎ মন্ডল, সিপিআইএম নেতা শংকর ঘোষ রবিউল হকসহ সিপিএম ও তৃণমূল বিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা। এই উপলক্ষে এদিন দুপুরে তিনি প্রায় ৫০০ মানুষের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করেন। 


উল্লেখ্য, মাত্র পনেরো বছর বয়স থেকে ১৯৭৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের একজন বাম কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের শুরু আশুতোষের। ভোটার হওয়ার পর থেকেই কখনও ইটভাটা শ্রমিক, কখনও লরি শ্রমিকের কাজের সূত্রে বাম শ্রমিক সংগঠনের আঞ্চলিক পদে কাজ করেছেন। ২০১১ সালে পালাবদলের পর কাজ হারান আশুতোষ। স্ত্রী, তিন সন্তানের সংসারে দারিদ্রতা দেখা দেয়। বিক্রি হয়ে যায় আশুতোষের সাধের লরিটিও। এরপর কখনও ইটভাটা শ্রমিক, কখনও ছোট ব্যবসা করেও আর নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেননি। 


এরপর রামচন্দ্রপুর পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন। সেই চায়ের দোকানে বসেই তিনি সগর্বে জানান, মমতার অপশাসন রুখে দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসলেও প্রতিজ্ঞা পূরণে কথামতো কাজ করবেন। কথামতই তাঁর দীর্ঘদিনের না কাটা চুল-দাড়ি কেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতিজ্ঞা পূরণ করেন তিনি রবিবার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad