উত্তর ২৪ পরগনা: গণনার আগে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। এবারে বারাসত। বারাসত গভর্মেন্ট কলেজের স্ট্রংরুম চত্বরে শনিবার সকাল সকাল উত্তেজনা। সিসিটিভি কাজ না করার অভিযোগ ঘিরেই অশান্তির সূত্রপাত। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা, পৌঁছন প্রার্থীও।
অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করেন, স্ট্রংরুমের সিসিটিভি বেশ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি নিজেই দ্রুত সেখানে পৌঁছন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রার্থীর অভিযোগ, শনিবার সকাল ৮ টা থেকে প্রায় ১৭ মিনিট সিসিটিভির আউটপুট মনিটর বন্ধ ছিল। ঘটনার খবর পেয়েই বারাসত কলেজের গণনা কেন্দ্রে আসেন তিনি। নারায়ণ বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি অশোকনগরের রিটার্নিং অফিসার, ইলেকশন ইনচার্জ, এডিএম এবং ডিএম-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।'
তাঁর দাবী, সত্যিই যদি সিসিটিভি বন্ধ করা হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিভি মনিটর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল এবং রেকর্ডিং বন্ধ হয়নি। এদিকে, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসডিপিও আজিংকা অনন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, স্ট্রংরুম পাহারায় থাকা তাঁদের কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং জোর করেই ভিতরে প্রবেশ করেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, আগের দিনই স্ট্রং রুমের সিসিটিভি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নারায়ণ গোস্বামী। এদিনের ঘটনার পর তিনি আরও কড়া সুরে জানিয়েছেন, দু’ঘন্টার মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও প্রশাসনের দাবী, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।কী ভাবে ওই মনিটর বন্ধ হয়ে গেল, তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি ইচ্ছাকৃত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল মনিটরটি, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই কলেজেই বারাসত, দেগঙ্গা, অশোকনগর এবং হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনার হবে।

No comments:
Post a Comment