কলকাতা: হাইকোর্টে পর সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। গণনা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। এদিন কপিল সিব্বল আদালতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি এবং তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। কপিল সিব্বল বলেন, "নির্বাচন কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা আশঙ্কা করছি যে এসিইও-র আদেশের ফলে ভোট গণনায় অনিয়ম ঘটবে।"
তৃণমূলের প্রশ্ন, কেন রাজ্য কর্মচারীদের গণনা সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে না? সংবিধানের ৩২৪ ধারা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। এটা রাজ্য কর্মচারীদের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, এ ধরনের অভিযোগ তোলা যায় না। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় কর্মচারী, সকলেই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, সেখানে শুধু গণনা তত্ত্বাবধায়কই নন, প্রার্থীদের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য আধিকারিকরাও থাকবেন। কোনও ধরণের আশঙ্কার কোনও ভিত্তি নেই।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনও নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত।
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে দিতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্যের শাসকদল। শনিবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে।
এর আগে গণনা সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের নিয়োগ বৈধ। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কমিশনের সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই। মামলাকারীর অভিযোগ প্রমাণহীন। ভবিষ্যতে যদি গণনায় কারচুপি প্রমাণ হয়, তবে ইলেকশন পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। এরপরেই হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে যায় তৃণমূল। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হয়।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত সিইও-র সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে, একজন কর্মচারী রাজ্য সরকারের সদস্যও হবেন। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের এই জবাব নথিভুক্ত করেছে। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনের সার্কুলারে হস্তক্ষেপ করেনি।

No comments:
Post a Comment