নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিনেই বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সকাল থেকেই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে চোখে পড়ল উৎসবের আবহ।
শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক এদিন ট্রেনে ও বাসে করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুর্গাপুর স্টেশন চত্বরে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কেউ আবার স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন গোটা স্টেশন এলাকা। মহিলা ও পুরুষ কর্মীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই এই দিনটিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন।
কর্মী-সমর্থকদের একাংশের দাবী, বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের সাক্ষী থাকতে পারা তাঁদের কাছে বিশেষ গর্বের। তাই সকাল থেকেই ব্রিগেডমুখী মানুষের ঢল নামে দুর্গাপুরে। ট্রেনের একাধিক কামরায় দেখা যায় বিজেপি সমর্থকদের ভিড়। গান, স্লোগান ও আবেগে ভরপুর পরিবেশে কার্যত উৎসবের রূপ নেয় যাত্রাপথও।
এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও রয়েছেন। সেই কারণে ব্রিগেড চত্বরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কলকাতা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পঁচিশে বৈশাখের মতো সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণ দিনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ বার্তা বহন করছে।
উল্লেখ্য, এদিন বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক।

No comments:
Post a Comment