বকরিদের আগে কড়া অবস্থান নিল উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাস্তায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট জায়গাতেই কুরবানি করা যাবে। উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ঈদের নামাজ শুধুমাত্র মসজিদ, ঈদগাহ বা প্রশাসন নির্ধারিত জায়গাতেই আয়োজন করা যাবে। কোনওভাবেই রাস্তা আটকে বা জনবহুল এলাকায় নামাজ পড়া যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোথাও জায়গার সমস্যা হলে শিফটে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করতে হবে, তবে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করা চলবে না।
বকরিদ উপলক্ষে কুরবানির ক্ষেত্রেও একাধিক কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে বা সংবেদনশীল এলাকায় পশু কুরবানি করা যাবে না। আগে থেকেই নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা হবে এবং সেখানেই কুরবানি করতে হবে। নিষিদ্ধ পশুর কুরবানি হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বেআইনি কসাইখানা, খোলা জায়গায় মাংস বিক্রি এবং কুরবানির বর্জ্য রাস্তায় ফেলে পরিবেশ নোংরা করার বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। উস্কানিমূলক পোস্ট বা গুজব ছড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
যোগী সরকারের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একাংশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। আবার অন্যদিকে কিছু মহলের অভিযোগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, সব ধর্মের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

No comments:
Post a Comment