উত্তর ২৪ পরগনা: প্রকাশ্য রাস্তায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলি করে খুন। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা। রাতেই মধ্যমগ্রামে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। রাত দুটো নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা ডিজিপিও নিশ্চিত করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডটি ২-৩ দিন ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিকল্পনা করে সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আমরা শোকাহত এবং এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা আমাদের নেই।"
তিনি বলেন, "দিল্লীতে আমাদের সমগ্র নেতৃত্ব এই বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে বিভিন্ন নেতা ও নির্বাচিত বিধায়করা এসেছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করবে। এটা ১৫ বছরের 'মহা-জঙ্গল রাজ'-এর ফল। এখন বিজেপি এখানকার গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে।"
বুধবার রাত ১১ টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় খুন হন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে পৌঁছন। চন্দ্রনাথের স্ত্রী এবং মেয়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রীর সঙ্গে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত।
শুভেন্দু আরও বলেন, "আমি ভগ্ন হৃদয় নিয়ে এসেছি এখানে। ওঁ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওঁ ছিল না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব না। আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করছি, রাজ্য পুলিশের ডিজি এসেছিলেন। আমাকে এবং সুকান্ত মজুমদারকে জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করবেন। গত ২-৩ দিন ধরে একটি ফলস নম্বরপ্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘোরাঘুরি চলছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিত, ঠাণ্ডা মাথায় খুন।"
তিনি বলেন, "কর্মী, সমর্থকদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দু'দিনের মধ্যেই বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা আমরা করব। সবাইকে অনুরোধ করব, শান্তি বজায় রাখুন এবং এই পরিবারগুলোর পাশে থাকুন।"
শুভেন্দু বলেন, "দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেব আমরা। সারাজীবন ওঁর পরিবারের পাশে থাকব। আহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।"
উল্লেখ্য, মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গাড়িতে দু'জন ছিলেন চালক ও আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। আপ্তসহায়কের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা গুলি করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে। ঘটনাস্থলে মধ্যমগ্রাম থানা এবং এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালানোর এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি সম্পর্কে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, "চন্দ্রের গাড়িটি আমার গাড়িকে অতিক্রম করার সময় হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে থেমে যায় এবং বাইকে থাকা এক ব্যক্তি এসে গাড়ির বাম দিক থেকে গুলি চালাতে শুরু করে।" প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, লোকটিকে বেশ দক্ষ বলে মনে হচ্ছিল। গুলি চালানোর পরপরই সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দেখে মনে হচ্ছিল, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল।
তিনি বলেন, "খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছিল। আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি।" তিনি জানান, ঘটনাটি রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটেছে। এটি হাসপাতাল থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরে ঘটেছে। লোকজন আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পাল, রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও একাধিক বিজেপি বিধায়ক। হাসপাতালের বাইরে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত বলেন, "আমরা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি আমরা বাজেয়াপ্ত করেছি, তবে খবর পাওয়া গেছে যে গাড়িটির লাইসেন্স প্লেট নকল এবং বিকৃত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাজা ও ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। দলটি ২০৭টি আসন পেয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।

No comments:
Post a Comment