কলকাতা: শনিবার দুপুরেই হরিশ মুখার্জি রোডে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডি। সেখানে পাওয়া যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরেই তাঁর কালীঘাট রোডের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ ধরাল সিআইডি। এদিন হরিশ মুখার্জি রোডে স্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায় সিআইডি টিম। এদিন দুপুরে সিআইডির কয়েকজন আধিকারিকের একটি দল অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায়। সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল।
এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কালীঘাট রোডের বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানেই তিনি দাবী করেন, 'আমি ওই বাড়িতে (শান্তিনিকেতন) থাকি না। অভিষেক বলেন, "তাদের যদি কোনও বক্তব্য থাকে বা কিছু দিতে হয় তাহলে এই বাড়িতে আসুন।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিআইডি-র আধিকারিকরা শান্তিনিকেতনের সামনে থেকে বেরিয়ে কালীঘাট রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হাজির হন। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নোটিশ ধরানোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারাউ। শেষ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নীচে নেমে এলে তাঁর হাতেই সেই নোটিশ তুলে দেয় সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বিধানসভার সই কেলেঙ্কারি মামলায় এই নোটিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী ১ জুন দুপুর ১২টায় সিআইডির সদর দফতর ভবানী ভবনে স্বশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার পর তিনি বলেন, "ওঁরা জানেন না আমি কোথায় থাকি। তদন্তকারীরা তদন্ত করছেন। সেখানে আমি সাত বছর ধরে কোথায় থাকি, সেই তথ্য তাঁদের কাছে নেই। যাই হোক, তাঁদেরও চাকরি করতে হয়। আমি কাউকে দোষ দেব না। ওঁরা নোটিশ নিয়ে এসেছেন, আমি রিসিভ করেছি। আমি পড়িনি এখনও। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন বলে রিসিভ করে ছেড়ে দিয়েছি।"
তিনি বলেন, "আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। কোথাও কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন পড়লে যাব। আমার লুকনোর কিছু নেই। এর আগে, দিল্লীতেও ইডি-সিবিআই যখন ডেকেছে, সহযোগিতা করেছি। এখানেও কর্মসূচি-পদযাত্রা আটকে একবার সিবিআই, একবার ইডি ডেকে পাঠিয়েছে। আমি সব মিলিয়ে কিছু না বলেও ১০-১২ বার এদের কাছে হাজিরা দিয়েছি। আমি কোথাও পালিয়ে যায়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আগে দুই-তিনটি তদন্তকারী সংস্থা ছিল, এখন পাঁচটি। ওরা ভাবছে আমার পেছনে পাঁচ-ছয়টি সংস্থা লেলিয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আমাকে নত করে দেবে। আমি সেরকম মানুষ নই। আমার গলা কাটলেও বা যা খুশি করলেও, আমাকে নত করতে হলে দশবার ভাবতে হবে এবং সাত জন্ম নিতে হবে।"
এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, সিআইডি টিম কেন এসেছে, কেএমসি কেন এসেছে, কী নোটিশ দিয়েছে, যারা দিয়েছে তারা বলতে পারবে।" সই জালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি নোটিশ পাইনি। আপনারা জেনে গিয়েছেন, কেন এসেছেন সিআইডি। যখন বলেই দিচ্ছে, সেখানে আমার বলার কিছু নেই। আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ, নোটিশ দেবে, আমি আইনত লড়াই করব।"
তিনি আরও বলেন, সিআইডি কী! এদের ইডি, সিবিআইয়ের কাছেও আমি মাথা নত করিনি। এদের দশ পুরুষও যদি চায় আমাকে সিআইডি দিয়ে, কেএমসি দিয়ে, বাড়ি ভেঙে, ঘর ভেঙে, অফিস ভেঙে, আক্রমণ করে, মাথায় আঘাত করে.... যা ইচ্ছে চেষ্টা করুক। আমি দমার ছেলে নই।"

No comments:
Post a Comment