কলকাতা: 'আসল পরিবর্তন-এর যুগ শুরু হল', মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গৃহীত একাধিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে একটি ঘটনাবহুল প্রথম দিন।'
তিনি লেখেন, "আমরা প্রতিশ্রুতিকে কাজে রূপায়িত করেছি। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করলাম। আমাদের রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য ৬টি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
১) আয়ুষ্মান ভারত: অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
২) সীমান্ত সুরক্ষা: সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে অবিলম্বে জমি হস্তান্তর নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
৩) যুব ক্ষমতায়ন: নির্বাচনী ইস্তেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি চাকরিতে প্রার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে, যাতে আগের জমানায় যাঁরা মূল্যবান সময় হারিয়েছেন, তাঁদের সহায়তা করা যায়।
৪) সাংবিধানিক রীতি পুনরায় প্রতিষ্ঠা: সরকারিভাবে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা' (বিএনএস) কার্যকর করা হয়েছে এবং সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জনগণনার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
৫) শহিদদের ন্যায়বিচার: পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, সেই ৩২১টি পরিবারের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের পদক্ষেপ করা হয়েছে।
৬) কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে বাধা দূর করা: পিএম বিশ্বকর্মা, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, পিএম উজ্জ্বলা ৩-এর মতো কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পগুলো যাতে মসৃণভাবে রূপায়িত হতে পারে, তার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।"
শুভেন্দু আরও লেখেন, "আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডুদের দফতর বণ্টন থেকে শুরু করে শীর্ষ আমলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক-বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট- এই সরকার 'জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য এবং জনগণের সরকার', আগের সরকারের মতো কোনও নির্দিষ্ট দলের সরকার নয়। 'আসল পরিবর্তন'-এর যুগ শুরু হল।"
সোমবার নবান্নয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এও ঘোষণা করেন, বন্ধ হবে না কোনও চালু সামাজিক প্রকল্প। তবে, সবটা করা হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে।

No comments:
Post a Comment