নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার অসংখ্য রেশন কার্ড। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুকে। এর প্রতিবাদে এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পরেই দলীয় কার্যালয়ে দখলের অভিযোগ উঠে আসছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, একইভাবে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সাহড়া গ্রামের হলদিয়া- মেছেদা রাজ্য সড়কের পাশে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ৪ তারিখ ফলপ্রকাশের রাতেই কিছু উৎসাহী বিজেপি কর্মী-সমর্থক দখল করে নেয়। এমনকি দখলের পাশাপাশি কার্যালয়টি গেরুয়া রংও করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যালয়টি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বৃহস্পতিবার এই দলীয় কার্যালয়টি তৃণমূলের নেতৃত্বের হাতে হস্তান্তরের কথা ছিল। যথারীতি সকাল দশটা থেকে দুই পক্ষের নেতৃত্বরা উপস্থিত হন দলীয় কার্যালয়ের সামনে। বিজেপি নেতৃত্বরা তৃণমূল নেতৃত্বের হাতে চাবি তুলে দেন। কিন্তু দলীয় কার্যালয়ে খুলে ভেতরে প্রবেশ করার পরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। বিজেপি নেতৃত্বরা দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করেন কয়েকশো সরকারি রেশন কার্ড। একে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। এরপরই বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখায় পাশাপাশি হলদিয়া-মেচেদা রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন।
বিজেপির দাবী, এই সমস্ত রেশন কার্ড নিয়ে অবৈধ কাজকর্ম করত তৃণমূলের। রেশন কার্ড থেকে রেশনও তুলত বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতৃত্বরা। বিজেপির দাবী, অবিলম্বে প্রশাসন এই দলীয় কার্যালয়টি বাজেয়াপ্ত করুক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কোলাঘাট থানার পুলিশ। কয়েকশো রেশন কার্ড তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা
এদিকে তৃণমূলে দাবী, এই রেশন কার্ডগুলি বহু বছর আগেকার। ২০১৮ সাল নাগাদ তৎকালীন সময়ে শান্তিপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে স্থানীয় গ্রাম সদস্যকে দেওয়া হয়েছিল পঞ্চায়েত থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ার জন্য। তৎকালীন সাহড়া গ্রামের সদস্য মদন চন্দ্র দাস বলেন, 'আমি কিছু ব্যক্তিকে রেশন কার্ড বিলিয়েছিলাম। কিন্তু প্রত্যেকেরই রেশন কার্ড চলে আসে বাড়িতে। তবে আমার উচিৎ ছিল পঞ্চায়েতে ফেরত দেওয়া। সেটা না করায় আমি ভুল করেছি।'
তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে কীভাবে এল এত রেশন কার্ড, সেই নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানোতোর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবী তুলেছে বিজেপি।

No comments:
Post a Comment