কলকাতা: প্রচণ্ড গরমে নাজেহাল কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। তবে উত্তরবঙ্গের ছবিটা একটু ভিন্ন। একদিকে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় যখন বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে জারি হয়েছে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা৷
আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের কারণে কলকাতা, হাওড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। আর্দ্রতা এতটাই বেশি যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে ঘরের ভেতরে বা বাইরে কোথাও শান্তিতে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। গত ২০ মে, বুধবার বিকেলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বীরভূম, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু অংশে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হলেও তা সাময়িক স্বস্তিটুকু দিতে পারেনি। উল্টে বৃষ্টির পর ভ্যাপসা গরম আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৬৪ শতাংশ।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে আগামী সাত দিন সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশের ঘরেই ঘোরাফেরা করবে। ফলে তীব্র গরমের থেকে রেহাই মিললেও, প্যাচপ্যাচে পরিস্থিতি থেকে এখনই মুক্তি মিলছে না দক্ষিণবঙ্গবাসীর।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাত চলছে কখনও বেশি আবার কখনও বিক্ষিপ্ত ভাবে। আগামী তিন দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিম বিহারের ওপর আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করায় প্রাক-বর্ষার এই পরিস্থিতি মে মাসের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।

No comments:
Post a Comment