বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া মালদায়, কী বলছেন স্থানীয় কৃষক থেকে শাসক-বিরোধী নেতারা? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, May 12, 2026

বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া মালদায়, কী বলছেন স্থানীয় কৃষক থেকে শাসক-বিরোধী নেতারা?


মালদা: রাজ্যে প্রথমবার পদ্ম ফুটেছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতা এসেছে বিজেপি সরকার। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার প্রশাসক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। আর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে কাটল জমি জট। ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত। খুশির হাওয়া মালদা জুড়ে। 


জমি দিতে রাজি মালদার কৃষকরা। মালদা জেলার হবিবপুর বিধানসভার ধুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোত কুবের এলাকার কৃষকরা খুশি। কৃষকদের একাংশের বক্তব্য, আগের তৃণমূল সরকার বহুবার কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিছু জমি অধিগ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে কিছু জন টাকাও পেয়েছে আবার অনেকেই টাকা পায়নি। জমি অধিগ্রহণ করতে বারবারই আগের সরকার তেমন ভাবে জোর দিচ্ছিল না। যদিও কৃষকরা দেশের সুরক্ষার স্বার্থে জমি দিতে প্রস্তুত ছিল। 


তাঁদের বক্তব্য, আজ পালাবদল হয়েছে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেক্ষেত্রে বিজেপি সরকারের এই যে উদ্যোগ এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। অবিলম্বে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হলে আমরা জমি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কাঁটাতার না থাকার ফলে বাংলাদেশী দুষ্কৃতীরা আমাদের জমির ফসল পাম্প মেশিন সব চুরি করে নিয়ে চলে যেত। সেক্ষেত্রে এই কাঁটাতার হয়ে গেলে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের অত্যাচার আর সীমান্তে হবে না। পাশাপাশি আমরাও সুরক্ষিত থাকব। আমরা জমি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।


স্থানীয় কৃষক সুরেশ চৌধুরী বলেন, "সমস্যা হল বাংলাদেশিরা আমাদের ধান গবাদি পশু নিয়ে চলে যায়। কাঁটাতার হলে আমরা খুব খুশি হব। বাংলাদেশিরা যাতে প্রবেশ করতে না পারে আমাদের ভারতে। তিনি বলেন, 'এটার জন্য অনেক মাপঝোপ হয়েছে কিন্তু এখনও কোনও ব্যবস্থা হয়নি। তাই আমরা চাইছি কাঁটাতারটা যেন খুব তাড়াতাড়ি হয়।' তিনি জানান, এর আগে জমির জন্য কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, 'জমি তো দিতেই হবে। জমি দিলে আমরা উপকৃত হব, সুরক্ষিত হব।' 


অন্য কৃষক শিবনারায়ণ চৌধুরী বলেন, "জিরো পয়েন্ট দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া হলে আমাদের সুবিধা। সরকার যেন এর জন্য ব্যবস্থা নেয়। তিনি বলেন, কাঁটাতার না থাকায় আমাদের অনেক রকম সমস্যা। তিনি বলেন, গরু চুরি-সহ অনেক কিছু আগে হত। ফসল চুরি করে নিয়ে যেত বাংলাদেশিরা। কাঁটাতার হয়ে গেলে বাংলাদেশিরা আর আসতে পারবে না।" তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে মাপঝোপ হলেও কাজ হয়নি। জমি দিতে ইচ্ছুক হলেও, নেয়নি।


হবিবপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, "আমরা সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বারবার আন্দোলন করেছি। অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে হুহু করে আসছিল। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কাঁটাতারের জন্য আমরা বারবার আন্দোলন করেছি। কিন্তু তৃণমূল সরকারকে বলেছিলাম, এর জন্য বিএসএফকে জায়গা দিতে হবে। কিন্তু এত আন্দোলন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এতবার বলার পরেও তাঁরা করতে পারেনি। তাঁর দাবী, সেই সময় জমি অধিগ্রহণ কিছু হয়েছিল ঠিকই কিন্তু সব মানুষ টাকা পায়নি। তিনি বলেন, এর জন্য হবিবপুর ব্লকে অনেক প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু আন্দোলনের পরেও অনেক জন টাকা পায়নি। 


বিজেপি নেতা বলেন, "এখন আমাদের সরকার হয়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে সঙ্গে ঘোষনা করে দিয়েছেন ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। সমস্ত জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। এজন্য আমি বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক ধন্যবাদ জানাই‌।"


সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ। তবে তাঁর দাবী, তৃণমূলের আমলেও কখনও জমি অধিগ্রহণ থেমে থাকেনি। বিএসএফের অসহযোগিতাও কিছু ক্ষেত্রে এর জন্য দায়ী। 


তিনি বলেন, 'বর্তমানে ভোটের জন্য হয়তো কিছু সমস্যা হয়েছিল, কাজ হয়নি। আমরা চাইব এই সরকার সেগুলো অধিগ্রহণ করে, মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিএসএফ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হাতে তুলে দেবে।' তাঁর দাবী, আগের সরকারের আমলেও পাচার বন্ধ হয়েছিল। আর বর্তমান সরকারও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে, পাচার বন্ধ হবে। তিনি বলেন, 'আমরা চাইব এই বিজেপি সরকারও আগের সরকারের মত সীমান্তবর্তী এলাকা সুরক্ষিত রাখবে এবং অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করবে।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad