ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৪ মে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড বিপর্যয়ের ঢেউ তুলেছে। ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করা হবে। ইরান ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও হস্তক্ষেপকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কাঠামোর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে গড়ে ওঠা সামুদ্রিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও হস্তক্ষেপ, যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
কয়েকমাসের সংঘাতের পর এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আজিজি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরান কোনও বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না। আজিজি ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালী এবং বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর ইশারায় চলবে না।
আজিজির এই মন্তব্য এ অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে তেহরানের পূর্ণ প্রত্যাখ্যানকেই তুলে ধরে। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট: এটি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণেই চালানো হবে।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বিদেশি জাহাজগুলোকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি নৌ অভিযান শুরু করবে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তিনি এই পদক্ষেপকে একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবী করেছেন যে, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে যেতে অক্ষম জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এই উদ্যোগটি সোমবার সকালে (পশ্চিম এশিয়ার সময়) শুরু হবে। মার্কিন প্রতিনিধিদের ওপর সংরক্ষিত এলাকা থেকে জাহাজ ও সেগুলোর নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই এমন সব দেশের, যারা বর্তমান সংঘাতে জড়িত নয়।


No comments:
Post a Comment