যেভাবে এল আইসক্রিম - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, May 4, 2026

যেভাবে এল আইসক্রিম

 


বিনোদন ডেস্ক, ০৪ মে ২০২৬: এই প্যাচপ্যাচে গরমে একটু আইসক্রিম পেলে মন্দ হয় না। শরীর-মনে যেন প্রশান্তি এনে দেয় ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা এই আইসক্রিম। ছোট হোক বা বড়, প্রায় সকলের প্রিয় খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এটি। কিন্তু এই আইসক্রিমের উৎপত্তি কীভাবে হল? ভেবে দেখেছেন কখনও? আসুন এই প্রতিবেদনে এই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 


আইসক্রিমকে আধুনিক যুগের জিনিস বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এর ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। এর কৃতিত্ব কোনও একক ব্যক্তিকে দেওয়া যায় না। এটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে। বিভিন্ন সংস্কৃতি এতে তাদের নিজস্ব পরিবর্তন ও পরিবর্ধন যোগ করেছে।


আইসক্রিমের প্রাচীন শিকড়

ঐতিহাসিকরা আইসক্রিমের প্রাচীনতম রূপের সন্ধান পান প্রায় ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন চীনে। সেখানকার মানুষ দুধ ও চাল মিলিয়ে প্রাকৃতিক বরফ ব্যবহার করে জমাতেন। যদিও এটি আজকের আইসক্রিমের মতো অতটা ক্রিমি ছিল না, তবে এটি নিঃসন্দেহে ফ্রোজেন ডেজার্টের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।


কয়েক শতাব্দী পরে, প্রায় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, ইরানের মানুষ এর একটি আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি করে। তাঁরা 'ইয়াখচাল' নামক একটি বিশেষ স্থানে বরফ সংরক্ষণ করতেন। তাঁরা এটিকে আঙুরের রস, জাফরান এবং গোলাপ জলের সাথে মিশিয়ে আজকের ফালুদার (একটি মিষ্টি) মতো একটি খাবার তৈরি করতেন।


আইসক্রিম কীভাবে ইউরোপে পৌঁছাল?

বিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলোকে প্রায়শই ত্রয়োদশ শতাব্দীতে চীন থেকে ইতালিতে আইসক্রিমের প্রথম রেসিপি আনার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। সেখান থেকে ধারণাটি সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে আজকের পরিচিত ডেজার্টে রূপান্তরিত হয়। ১৮৪৩ সালে একটি বড় পরিবর্তন আসে যখন ন্যান্সি জনসন হাতে চালিত একটি আইসক্রিম মেশিন আবিষ্কার করেন এবং তার পেটেন্ট করেন।


ভারতের প্রথম ফ্রোজেন ডেজার্ট

আধুনিক আইসক্রিম ব্র্যান্ডগুলির আবির্ভাবের অনেক আগেই ভারতে নিজস্ব ফ্রোজেন ডেজার্ট ছিল—কুলফি। এই ডেজার্টটি ষোড়শ শতকে মুঘল আমলে জনপ্রিয়তা লাভ করে। সম্রাট আকবরের শাসনামলে, হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে বরফ আমদানি করে শুকনো ফল ও মশলার সাথে মেশানো কনডেন্সড মিল্ককে জমাট বাঁধানোর জন্য ব্যবহার করা হতো।


ভারতে আধুনিক আইসক্রিম

আধুনিক আইসক্রিম ভারতে অনেক পরে, ১৯৪০-এর দশকে আসে। সতীশ সোনা ‘কোয়ালিটি’ ব্র্যান্ড চালু করেন। এর মাধ্যমেই দেশে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত আইসক্রিমের সূচনা হয়। কোয়ালিটি ভ্যানিলা এবং স্ট্রবেরির মতো পশ্চিমা ফ্লেভার চালু করে এবং সেগুলি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


পরবর্তী বছরগুলিতে, রঘুনাথন কামাথ আসল ফলের ফ্লেভারের ওপর মনোযোগ দিয়ে এই শিল্পে বিপ্লব ঘটান। তাঁর ব্র্যান্ড, ‘ন্যাচারাল আইসক্রিম’, কৃত্রিম ফ্লেভারের পরিবর্তে তাজা উপাদান ব্যবহারের জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad