বিনোদন ডেস্ক, ০৬ মে ২০২৬: ছাব্বিশের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়। এর মধ্যে দিয়ে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটল। আর রাজ্যে এই পালাবদলের আবহেই বিরাট চমক দিলেন কবীর সুমন। শিল্পী বললেন, “আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!” গত দেড় দশকে বঙ্গবাসী যে তৃণমূল আর সুমনকে সমার্থক বলেই জেনে এসেছে, তিনিই কিনা এমন ডিগবাজি খেলেন! আর শিল্পীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সরগরম বিভিন্ন মহল।
সম্প্রতি, সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিল্পী বলেন, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও দলের সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।”
এখানেই শেষ নয়! সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে তৃণমূলের এই ভরাডুবি নিয়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করেন কবীর সুমন। তাঁর কথায়, “যেভাবে ভোটটা হল, হঠাৎ সামরিক বাহিনী ঢুকল। ভাবতে পারিনি যে, ট্যাঙ্ক ঢুকবে। তবে জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি।"
তাঁর কথায়, "যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি। আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন। যেমন সবুজসাথী। বাচ্চারা সাইকেল পেয়েছে। এটা কতবড় কাজ। এসব কাজের পর হয়তো একদিন মমতার একটা মন্দির হবে।"
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেও ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন শিল্পী। কিন্তু ফলপ্রকাশের পরেই তাঁর গলায় শোনা গেল অন্য সুর।

No comments:
Post a Comment