কলকাতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই স্ট্রংরুমে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয় কলকাতা। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের স্ট্রংরুমের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজারা। এমনকি একাধিক অভিযোগ পেয়ে নিজের কেন্দ্রের স্ট্রংরুমেও ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘক্ষণ পর শাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি এবং একের পর এক ক্ষোভ উগরে দেন। বিভিন্ন স্ট্রং রুমে ইভিএম লুঠের চেষ্টা চলছে, বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
মমতা বলেন, এজেন্টরাও মানুষ। বাইরে আমাদের অফিসিয়াল এজেন্টরা বৃষ্টিতে ভিজছিল। বিল্ডিংটা সম্পূর্ণ বন্ধ। বাইরে থেকে আমাদের এজেন্টরা কীভাবে স্ট্রং রুমের ওপর নজর রাখবেন? সিসিটিভির ব্যবস্থা করলাম, যাতে ওঁরা নিচে বসেই দেখতে পারেন। এখন ওদের সবাইকেই বারন্দায় বসিয়ে দিয়ে এসেছি। সব পার্টির এজেন্টদের জন্যই ব্যবস্থা করেছি। সবাই তো মানুষ। রাজনীতিতে ঝগড়া অশান্তি তো লেগেই থাকবে। কিন্তু আমি কখনই এটা চাই না যে, মানুষের ভোট জবরদস্তি দখল করা হোক।"
মমতা বলেন, "অত অত্যাচার হয়েছে, আমাদের এত এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে, সব একতরফা হয়েছে। তারপরেও যদি ইভিএম লুঠ করার চেষ্টা চলে, কেউ যদি কাউন্টিং লুঠের চেষ্টা করে, আমি জীবন-মরণ এক করে লড়ব। আমি সমস্ত পার্টির এজেন্টদের বলে এসেছি, এটা আপনাদের অধিকার। স্ট্রংরুমের দেখভাল করুন। কিন্তু ঝগড়া করবেন না। এটা ঝগড়ার জায়গা নয়।" তিনি বলেন, 'কাউন্টিংয়ের দিনে হয়। একদিকে এক পার্টি হয়, আরেকদিকে অন্য পার্টি। স্ট্রংরুমে প্রেসও থাকে।'
তিনি বলেন, 'এটা তো ঠিক নয়, আমি আসতেই স্লোগান, চিৎকার চেঁচামেচি করছে। আমিও বলতে পারি, ওরা গুজরাট থেকে স্লোগান দিতে এসেছে। স্থানীয় গুজরাটি নয়। ফেসবুক লাইভ করছিলেন, সব দেখেছি। কিন্তু এটা তো আমার এলাকা, এক সেকেন্ডে ১০ হাজার লোক দাঁড় করিয়ে দেব। আমার বাইরে থেকে লোক আনার দরকার নেই।'
মমতা আরও বলেন, "রাজ্য পুলিশ আমাদের সঙ্গে কাজ করছে না। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে, ওরা নির্বাচন কমিশনের হয়ে কাজ করছে। কোনও একটা সুপার পাওয়ার কাজ করছে, ওদের ওপর চাপ দিচ্ছে। ফোনে বা ভিডিও কলে ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে। বলছে, কেস করে দেবে। সাসপেন্ড করে দেবে। কিচ্ছু করতে পারবে না। অবজারভারের কিছুই করার নেই। অবজারভার তো ২ দিন পরে চলে যাবে। কিন্তু এরপরে যাঁরা এখানে থেকে কাজ করবেন, তাঁদের ওপর তো কেস চলবে।'
এই বিষয়ে অভিযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment