ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ মে ২০২৬: এক নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ঘটেছে এই নক্ক্যারজনক ঘটনাটি। এই ঘটনায় পুলিশ দুই মহিলা-সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে এখন পর্যন্ত পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অন্য একজন এখনও পলাতক রয়েছে। এই ঘটনাটি গোয়ালিয়র থানা এলাকায় ঘটেছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ এই তথ্য দিয়েছে।
পুলিশের মতে, ৩১ জানুয়ারি কোচিং থেকে ফেরার পথে নাবালিকাটিকে অপহরণ করা হয়। এরপরে তাকে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রথমে, নাবালিকার মা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান যে, তার মেয়েকে কোনও অজ্ঞাত ব্যক্তি ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর, পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অনুসন্ধানের সময় কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে পৌঁছায়। সেখান থেকে পুলিশ ১লা মার্চ মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত যোগেশকে গ্রেফতার করে। এরপর নির্যাতিতাকে গোয়ালিয়রে এনে একটি ওয়ান স্টপ সেন্টারে রাখা হয়, যেখানে তার কাউন্সেলিং করা হয়। প্রায় এক মাস পর নাবালিকাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে, ভয় এবং মানসিক চাপের কারণে পুলিশকে সম্পূর্ণ বিবরণ দেয়নি ওই নাবালিকা। তবে, সম্প্রতি বাড়ি ফিরে সে তার মাকে পুরো ঘটনাটি জানায়।
এরপরে, নাবালিকার মা থানায় এসে একটি নতুন অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় যে, তাঁর মেয়েকে শুধু অপহরণই করা হয়নি বরং বন্দি করে গণধর্ষণও করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুইজন মহিলাকে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে; চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা। পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকি একজনের সন্ধান চলছে। গোয়ালিয়র থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রশান্ত শর্মা জানিয়েছেন যে, ফেব্রুয়ারিতে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরপরই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তদন্ত চলাকালে জানা যায় যে, নির্যাতিতা বেঙ্গালুরুতে ছিলেন, এর পরে পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনে। অভিযুক্তরা নাবালিকার বাড়ির আশেপাশেই থাকত বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের মতে, অভিযুক্ত যোগেশকেও সেই সময় গ্রেফতার করা হয় এবং ওই নাবালিকাকে একটি ওয়ান স্টপ সেন্টারে কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছিল। পরে, বাড়ি ফিরে নাবালিকা পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে জানায়। পুলিশ জানিয়েছে যে, এই মামলায় অভিযুক্তদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভূমিকা ছিল। কেউ অপহরণে সাহায্য করেছিল, আবার অন্যরা সরাসরি অপরাধে অংশ নিয়েছিল। তদন্তকালে মহিলাদের ভূমিকাও সামনে এসেছে। বর্তমানে পুলিশ পলাতক অভিযুক্তর সন্ধান করছে এবং মামলার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে হাজতবাস দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment