কলকাতা: 'জনগণের ভেতরের যে ক্ষোভ কোথাও না কোথাও তো প্রকাশ পাবেই, সোনারপুরে অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় তোপ দিলীপ ঘোষের। শনিবার সোনারপুরে ব্যাপক জনরোষের মুখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ডিম, জুতো ছোড়া থেকে শুরু করে মারধর পর্যন্ত দেওয়া হয়। তাঁর ওপর এই হামলার বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, 'আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।' তবে, এটা মানুষের ক্ষোভ বলেও মন্তব্য করেছেন দিলীপ।
রবিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'অভিষেকের সাথে যা হয়েছে তা হওয়া উচিৎ ছিল না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে জনগণ যা সহ্য করে আসছে, প্রত্যেকটি মানুষকে হয়রান করা হয়েছে। কাউকে ছাড়া হয়নি। সকলের অধিকার হরণ হয়েছে। আইন ব্যবস্থা নেই, কোনও সুবিধা নেই। বাড়ির সামনে বাস চলাচল করত সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দশ বছর ধরে। ব্যারিকেড দিয়ে দেওয়া হয়। কে অধিকার দিয়েছে?"
তিনি বলেন, "এক ছোট নেতাও তিন-চার গাড়ি নিয়ে ঘোরেন। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে থানায় পুলিশ নেই। সব তৃণমূল নেতার ঘরে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। কেন? আর অসমাজিক সব নেতারা, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ চালানো তাদের কাজ ছিল। এরা কখনও কোনও সৎ লোকের সঙ্গে মেশেনি। নিজেদের মন্ত্রী-বিধায়কদের সঙ্গেও এরা মিশতেন না। শুধু সিন্ডিকেট।"
অভিষেককে তোপ দেগে দিলীপ বলেন, "জনগণের ভেতরের যে ক্ষোভ কোথাও না কোথাও তো প্রকাশ পাবেই। জনতা কতটা ক্ষিপ্ত দেখুন, ফলতার তৃণমূল চতুর্থ স্থানে। এটা দেখে বোঝা উচিৎ ছিল। কেন ঝুঁকি নিচ্ছেন? হিরো সাজতে কেন যাও ভাই? যা জীবনে কখনও করেননি, রাস্তায় পা দেননি, ২২ গাড়ির কনভয় নিয়ে ঘুরতেন। সেই ব্যক্তি আজ গিয়ে হিরো সাজবেন!"
মন্ত্রী বলেন, "আমাদেরও তো অনেক মারধর হয়েছে। আমার গায়েও এমন অনেক দাগ আছে। আমি কখনও কাউকে দেখাইনি। আমাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাড্ডা জি'র সঙ্গে আমি গাড়িতে ছিলাম। তৃণমূলেরই দুটো বিধায়ক হাজার হাজার লোক নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। ইট, পাথর ছুড়েছে, দশটা গাড়ি ভেঙেছে। জনগণ সব দেখেছে।"
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, "মানুষ সুযোগ খুঁজছিলেন। আপনি সুযোগ দিচ্ছেন কেন? ঘরে থাকুন শান্তিতে। অনেক কামিয়েছেন। এখন খান, দেশ-বিদেশ ঘুরুন।"

No comments:
Post a Comment