শিলিগুড়ি: বিধানসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে সোমবার। এদিন ফল ঘোষণার প্রথম থেকেই একেবারে বলা চলে যে, গেরুয়া ঝড় গোটা রাজ্যজুড়ে। উত্তরবঙ্গের ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রও গেরুয়াময়। এরই মাঝে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনা ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন কানকাটা মোড়ের। উল্লেখ্য এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। আর বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হোন। এরপরেই বিজেপির নেতা কর্মী-সমর্থকরা একেবারে বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন। এই আবহেই এমন অশান্তির খবরে যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ির ঘটনাস্থলে ছুটে যায় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ভক্তিনগর থানার আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছান কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পরেই গোটা এলাকা একেবারে থমথমে রয়েছে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরজুড়ে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য ইতিমধ্যে গোটা এলাকা জুড়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে সমস্ত দিকে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন কানকাটা মোড়ে তাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে দখল করার চেষ্টা করে বিজেপি। তৃণমূলের দাবী, বিজেপি ক্ষমতায় এসে এরকম কাজ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের বাইরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাঁদের দাবী, এইরকম ঘটনা বিজেপির নেতা, কর্মী-সমর্থকরা কেউ ঘটাতে পারেন না। যে ঘটনা ঘটেছে তা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরাই ঘটাচ্ছে। বিজেপি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখেছে রাজ্যজুড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের নিচে মাটি সরে গেছে, যার জন্য এসব কথা বলছে। বিজেপি এরকম ঘটনা ঘটায়নি।
ভোটের ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে সোমবার। গেরুয়া ঝড়ে ধরাশায়ী ঘাসফুল শিবির। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সাবধান করেছে। অশান্তির চেষ্টা করলে দল নির্বিশেষে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এরপরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর উঠে আসছে।

No comments:
Post a Comment