দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্তদের দেখতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। চলে এলোপাথাড়ি কিল-চড়-ঘুষি। এই সময় ছিঁড়ে যায় অভিষেকের সাদা জামা। প্রবল জলরোষের জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে অভিষেককে হেটমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
শনিবার অভিষেক সোনারপুরে পৌঁছতেই শুরু হয় তুলকালাম। মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার মাঝপথেই অভিষেককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু হয়। মুহূর্তে রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় এলাকা। প্রথমে চোর চোর স্লোগান। পরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে ঢিল, ডিম, জুতো ছোঁড়া হয়। দেখানো হয় কালো পতাকা। প্রবল জনরোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না গিয়ে বাইকে চড়ে বসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তখনই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েকজন। এরপর শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা। বাইকে করে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় ক্রিকেটের হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ এগোতে থাকেন পায়ে হেঁটে। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ। এর মধ্যে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক।
উল্লেখ্য, এদিন সিআইডির নোটিশ পাওয়ার পর কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তৃণমূল সাংসদ। মাঝখানে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিআইডি-র নোটিশ নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। কিন্তু সোনারপুরে ঢোকার আগেই রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। অভিষেককে 'গো ব্যাক' স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পাটুলির কাছে ঢালাই ব্রিজ থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ, সর্বত্র বিজেপি কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এরপর সোনারপুরে ঢুকতেই প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতেই আটকে থাকতে হয় অভিষেক। বাইরে প্রবল বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে প্রবল উত্তেজনা রয়েছে।

No comments:
Post a Comment