নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার আধার-ভোটার কার্ড ও তৃণমূলের ফ্ল্যাগ! কাঠগড়ায় প্রাক্তন কাউন্সিলর। ঘটনায় চাঞ্চল্য বেলুড়ে। হাঁটু সমান নোংরা-আবর্জনার ডাস্টবিনে পড়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি এবং একটি রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন! এমনই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল বেলুড়ের গিরিশ ঘোষ রোড এলাকা।
রাতের অন্ধকারে বেলুড় গিরিশ ঘোষ রোডের ধারের একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে রাশি রাশি সরকারি নথি— যার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং চাকরির আবেদনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল নথিপত্র।
শুধু তাই নয়, এর সঙ্গেই উদ্ধার হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার দলীয় ফ্ল্যাগ এবং ফেস্টুন। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর সীমা ভৌমিক এবং তাঁর স্বামী দিবাকর চক্রবর্তী। রাতের অন্ধকারে এই সমস্ত নথিপত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁদেরই বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবী, এই প্রাক্তন কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি সহ একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। বেলুড় থানাতেই দিবাকর চক্রবর্তীর নামে একাধিক তোলাবাজির লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের সরকারি নথি ও চাকরির আবেদনপত্র কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁদের কাছে ছিল আর কেনই বা তা ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হল তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।
যে আধার, ভোটার বা রেশন কার্ডের জন্য সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রান হতে হয়, যে চাকরির আবেদনপত্রের সাথে জড়িয়ে থাকে বেকার যুবদের ভবিষ্যৎ, তা কীভাবে একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থাকার পর ডাস্টবিনে চলে যায়? বড়সড় দুর্নীতি ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা, নাকি সাধারণ মানুষের আবেগের সাথে চরম খামখেয়ালিপনা? উঠছে প্রশ্ন।
বেলুড় থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নামুক এবং সাধারণ মানুষের নথিপত্র নিয়ে এই ছিনিমিনির নেপথ্যে থাকা আসল সত্যটি অবিলম্বে সামনে আসুক, দাবী বিজেপি নেতৃত্বের।

No comments:
Post a Comment