কলকাতা: অভিষেকের দুয়ারে আবারও সিআইডি। বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে আজ সোমবার ৮ই জুন ভবানী ভবনে অভিষেকের হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন হাজিরা এড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। চিঠি লিখে তদন্তকারী সংস্থার কাছে সময় চান তিনি। বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'র বৈঠকে যোগ দিতে শনিবারেই দিল্লী পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি সেখানেই রয়েছেন। এর আগে সিআইডি নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি রয়েছে। একথা জানিয়ে সিআইডিকে এদিন চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সিআইডি হাজিরা এড়ালেন অভিষেক।
আর অভিষেকের চিঠি পেয়েই ফের তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকেরা। সোমবার বিকেলে কালীঘাটের বাড়ির সামনে হাজির হন সিআইডির আধিকারিকরা। নোটিশও দেওয়া হয় তৃণমূল সাংসদকে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ৯ তারিখেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে ভবানীভবনে। বিকেল ৫ টার মধ্যে তাঁকে উপস্থিত হতে বলা হয়। এদিন ৭-৮ জন অফিসার অভিষেকের বাড়িতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন মহিলা অফিসাররাও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রে খোঁজ করেন সিআইডি আধিকারিকরা। কথা হয় গেটে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে। করা হয় ভিডিওগ্রাফিও। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীর হাতেই নোটিশ দেওয়া হয়। এই নিয়ে অভিষেককে এটা তৃতীয় নোটিশ সিআইডির।
বিধায়কদের সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে অভিষেকের নাম জড়িয়েছে। তারই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। সই কেলেঙ্কারি কাণ্ডে অভিষেককে জেরা করতে চান তদন্তকারীরা। কিন্তু এদিন তলব সত্ত্বেও হাজিরা দেননি অভিষেক। সময় চেয়ে সিআইডিকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেই ফের কালীঘাটের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হন সিআইডি আধিকারিকরা। তাঁদের হাতে বেশ কিছু কাগজপত্র ছিল।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। গত ১ জুন তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজির হতে বলা হলেও তিনি যাননি। শনিবার সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন অভিষেক আর সেই থেকেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডিকে চিঠি পাঠান অভিষেক। সেদিন বিকেলেই সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নতুন নোটিশ দিয়ে আসেন এবং ৮ জুন হাজিরার নির্দেশ দেন।
সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান অভিষেক। নোটিশ খারিজের আবেদনের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ যেন না করা হয়, সেই আর্জি জানানো হয়। গ্ৰেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচেরও আর্জি জানান অভিষেক। শুক্রবার সেই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও তা ধোপে টেকেনি। বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায় দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১০ তারিখ ওই মামলার শুনানি হবে। এদিকে ৮ তারিখেই বিজেপি বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও দিল্লী যাওয়ার কথা ছিল এবং মমতার একদিন আগে শনিবারেই তিনি দিল্লী চলে যান। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছিলই যে সোমবার কি সিআইডি-র ডাকে অভিষেক সাড়া দেবেন? কিন্তু এদিন দেখা গেল হাজিরা এড়িয়েই গেলেন তৃণমূল সাংসদ। আর সিআইডিও নাছোড়বান্দা। বিকেলেই ফের তাঁরা পৌঁছে গেলেন অভিষেকের বাড়িতে।

No comments:
Post a Comment