মমতার চোখের সামনেই ভাঙল তৃণমূলের সংসদীয় দল! কাকলির নেতৃত্বে স্পিকারকে চিঠি ২০ 'বিদ্রোহী' সাংসদের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, June 8, 2026

মমতার চোখের সামনেই ভাঙল তৃণমূলের সংসদীয় দল! কাকলির নেতৃত্বে স্পিকারকে চিঠি ২০ 'বিদ্রোহী' সাংসদের


কলকাতা: জল্পনাই সত্যি হল, বিধানসভার পুনরাবৃত্তি সংসদেও। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া সংসদের রাশ। সমস্ত গুঞ্জন সত্যি করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিলেন তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদরা। সূত্রের খবর, আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে জমা দেওয়া হয়েছে চিঠি। অর্থাৎ এবার বিধানসভার পর লোকসভার রাশও 'নতুন তৃণমূলে'র হাতে। আরও শোনা যাচ্ছে, 'বিদ্রোহী' সাংসদের সংখ্যাটা বেড়ে হতে পারে ২১।


বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির একমাসের মধ্যেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে তৃণমল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন। সেই থেকেই শোনা যাচ্ছিল, একই কায়দা ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও। জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার দিল্লী উড়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর একদিন আগে দিল্লীতে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হল না। মমতার চোখের সামনেই ভেঙে টুকরো হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। 


বিদ্রোহী সাংসদের একজন শর্মিলা সরকার সংবাদমাধ্যমে জানান, আপাতত ২০ জন সাংসদ মূল তৃণমূল থেকে আলাদা একটি ব্লক তৈরি করছেন। এই সংখ্যা পরবর্তীতে বাড়তে পারে। তিনি এও জানান, এই ব্লক এনডিএ জোটকে সমর্থন করবে। অর্থাৎ, ছবি যা দাঁড়িয়েছে, মমতা ইন্ডিয়ায় হলেও সংসদের 'নতুন তৃণমূল' কিন্তু এনডিএ-তে।


রবিবার দিল্লীতে গোপন বৈঠক করেন তৃণমূলের অন্তত ২১ 'বিদ্রোহী' সাংসদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল,

অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও ২০ সাংসদ। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। কার্যত তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এদিনই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন ট্যুইস্ট আসছে। 


আর হলও তাই। বৈঠকের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে জানানো হয়েছে, এই ২০ সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে থাকতে চান না। তাঁরা এনডিএতে যোগ দিতে চান। স্পিকারের কাছে তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন, তাঁদের যেন এনডিএর সঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ পরিষদীয় দলের মতোই ভেঙে চুরচুর হয়ে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল। বিদ্রোহীরা মুখ্য সচেতক হিসেবে চাইছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকারের স্বীকৃতি মিললে এবার লোকসভাতেও 'নতুন তৃণমূল' হতে চলেছেন এই বিদ্রোহীরা। আর এতে করে লোকসভার দলনেতা থাকবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 


একদিকে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে নতুন তৃণমূল' আত্মপ্রকাশ করেছে। অন্যদিকে দিল্লীতে কাকলির নেতৃত্বে 'নতুন তৃণমূল' হতে চলেছে। ফলত নিজের হাতে গড়া দলে নিজেই ব্রাত্য থাকছেন মমতা। এবারে কী প্রতীকটাও খোয়াবেন? উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad