দেশবিরোধী মন্তব্য! মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 4, 2026

দেশবিরোধী মন্তব্য! মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর


কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবারও দায়ের হল এফআইআর। ফের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় প্রাক্তন তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এবারে দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ। আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। 


তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকেরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগে আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ভারতের কূটনৈতিক মর্যাদাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং অন্য দেশের সাথে জড়িত বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এই মন্তব্যগুলো অস্থিরতা উস্কে দিতে পারে এবং জনশৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


উল্লেখ্য, ২রা জুন ধরনা কর্মসূচি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্য দেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পর আমাদের এসটিএফ ধরে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন, এতদিন বলিনি আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম। উনি বললেন, আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল, আমি সব জানি। আমার হৃদয় সত্য ভাণ্ডার।”


এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস কীভাবে করতে পারেন? উঠছে প্রশ্ন।


প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগেই, অর্থাৎ গত মাসের শেষেও এই আইনজীবী শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগে মূলত দুটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়; ২০২৫ সালের ঈদের অনুষ্ঠানে করা মন্তব্য এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্নামঞ্চ থেকে দেওয়া ভাষণ।


জানা যায়, গত ২০ মে তিনি সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই ঘটনায় ২৫ মে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে সাইবার ক্রাইম থানা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(১), ৩৫২, ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রিঙ্কির অভিযোগ, ২০২৫ সালে ঈদের অনুষ্ঠান থেকে তিনি যে মন্তব্য করেছিলেন, তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার মতো কথা। এরপর ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্নামঞ্চ থেকে মমতার মন্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। 


আইনজীবীর অভিযোগ, ২০২৫ সালে রেড রোডের ঈদের অনুষ্ঠান থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে তিনি উল্টে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বলে দাবী করেছেন।


জানা গিয়েছে, এবারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে ১৫২, ১৫৩, ১৫৩ এ সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেমন -


১৫২: ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কার্যকলাপ।


১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো


১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো


১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা


১৯৬ - ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে


৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা


৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য।



অভিযোগকারী আরও দাবী করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বৈরিতা উস্কে দিতে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad