'১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে অনেকের চর্বি জমে গেছে', তৃণমূলের বেসুরোদের ঝাঁঝালো আক্রমণ মহুয়ার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, June 4, 2026

'১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে অনেকের চর্বি জমে গেছে', তৃণমূলের বেসুরোদের ঝাঁঝালো আক্রমণ মহুয়ার

 


নদিয়া: দলের বিপর্যয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সমস্ত রকম রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির কাঠ পুতুল বলে বর্ণনা করেছেন সাংসদ। একই সাথে তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও। ২৭ থেকে ৩০ লক্ষ বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।


সাংসদের কথায়, বিজেপি পেয়েছে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ভোট, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, তাঁর মুখকে সামনে রেখে ২ কোটি ৬০ লক্ষ। ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির সাথে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ লক্ষ। এবারে নিজের দলেরই সেই সমস্ত জয়ী প্রার্থীদের এক হাত নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, যে ৮০ জন জয়ী প্রার্থী লড়াই করেছিলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর মুখকে সামনে রেখে জোড়া ফুল চিহ্নে তৃণমূল কংগ্রেসে লড়াই করেছিলেন। তারা কিন্তু বিজেমূল, কংগ্রেসে লড়াই করেননি। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াই করে মানুষের আশীর্বাদে জয়ী হয়েছে। 


যে প্রার্থীরা মানুষের ভোটে রায় নিয়ে জিতেছেন, তাঁরা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে জয়লাভ করেছেন। বিধায়করা তো বলতে পারেন না যে, তাঁরা স্বাধীন। যেসমস্ত বিধায়করা বর্তমানে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে মহুয়া বলেন, "আপনারা দল থেকে পদত্যাগ করে বিজেমূল প্রতীকে দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।" দলীয় বিদ্রোহী বিধায়কদের উদ্দেশ্য মহুয়া বলেন, "এমন কোনও হনু তাঁরা বলতে পারেন না যে ভোট তারা পেয়েছিলেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে হয়নি।"



বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য মহুয়া মৈত্র বলেন, "১৫ বছর ক্ষমতা থাকার পর অনেকের চর্বি জমে গেছে। অনেকের মনে হয়েছে বিরোধীতা এখন আর ভালো লাগছে না। কে বিরোধী থাকবে? কে পুলিশের সাথে লড়াই করবে? পুলিশ তাঁদের কথা শুনবে না, বিডিও তাঁদের কথা শুনবে না, ওসি তাঁদের কথা শুনবে না। এইসব ঝামেলায় আর তাঁরা যাবে না। বিজেপির সাথে আঁতাত করে নিলে নিজেদের পুলিশ থাকবে, তাঁদের নিরাপত্তা থাকবে। আরাম করে যাব, এদিকেও খেলব, ওদিকেও খেলব।'


মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করে মহুয়া বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। আমরা যখন এই পার্টিতে যোগদান করি আমরা কোনও দিন ভাবতে পারিনি যে আমরা সরকারে আসব। যখন প্রথম আমি করিমপুরে উপনির্বাচনে লড়াই করতে যাই, তখন মহুয়াকে অনেকেই বলেছিল শত্রু দিয়ে বাঘ মারতে পাঠাচ্ছি তোমাকে। আমি গিয়ে করিমপুরে লড়াই করেছিলাম। পার্লামেন্টে আমাকে যখন বহিষ্কৃত করেছিল, সবাই আমাকে বলেছিল, 'এবার কৃষ্ণনগরে তুমি হারবে'। কিন্তু আমি জিতে এসেছিলাম। যদি লড়াই করার মানসিকতা থাকে, বিজেপির বিরুদ্ধে যদি লড়াই করতে হয় তবে ভয়ের কোনও জায়গা নেই।"


বর্তমান নেতাদের এক হাত নিয়ে মহুয়া বলেন, "এখন সব নেতা মানুষের জন্য ভাবছে না, সকলে নিজের জন্য ভাবছে। মানুষ তো বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে আপনাদের জিতিয়েছে। আপনারা এই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে কি করে বলছেন যে আমরা আসল তৃণমূল?" মহুয়ার কথায়, "আসল তৃণমূল তো বিজেপি বিরোধী তবে কীভাবে সেটা হয়? নিজে ইডি-সিবিআই থেকে বাঁচতে, নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘুরতে এখন বিজেপির সাথে হাত মেলাচ্ছেন। সেটা কীভাবে সম্ভব?"


মহুয়া আরও বলেন, "যারা যেতে চান তাদের জন্য দরজা খোলা, আপনারা যান। কর্মীদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মহুয়া বার্তা, "তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দল। কোনও নেতা যদি ভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপির সাথে হাত মিলিয়ে বিজেপিতে যাবে, তাদের যেতে দিন। এই পথে হাঁটতে দিন। আপনাদের ভালোবাসা এবং আপনাদের আশীর্বাদ আমাদের সাথে আছে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছি। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে এসেছি এবং এর শেষ দেখে ছাড়ব।" 


কর্মীদের আশ্বস্ত করে মহুয়া বলেন, "একদম উদ্বিগ্ন হবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন, সাথে আমরা রয়েছি। আমরা বিজেপির বিরোধী শক্তি এবং আমরাই বিজেপির বিরোধী শক্তি হিসেবেই থাকব। তৃণমূল ছেড়ে যে যেতে চায় যাক, এটা গণতন্ত্র, দরজা খোলা আছে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে এসে এখন কর্মীদের কেউ কেউ আমন্ত্রণ জানাবে। আমরা গতদিনে অনেক জয়লাভ করেছি আগামী দিনেও আমরা ঠিক জায়গায় পৌঁছব। আপনারা ঠিক থাকেন সাথে থাকেন। যে যাওয়ার, তাঁরা যাক। দলের শুদ্ধিকরণ হোক। এই সাথে একটা জিনিস পরিষ্কার হোক, কে বিজেপি বিরোধী আর কে বিজেমূল।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad