কলকাতা: মেসিকাণ্ডে থানায় হাজিরা এড়ালেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হয়েছিল। যুবভারতীতে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তারপরেই অরূপকে তলব করে পুলিশ। তাঁকে ৫ জুনের মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আরও ২ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। এই বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করে পোস্ট করেছেন শতদ্রুও।
সূত্রের খবর, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অরূপ বিশ্বাস। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই মুহূর্তে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অরূপ। আর এই আর্জির কথা সামনে আসতেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ মেসির ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু। সমাজমাধ্যমে অরূপ বিশ্বাসকে কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, 'সমন আসতেই হঠাৎ অসুস্থতা! কিন্তু একটা কথা মনে রাখুন-মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে হয়তো সময় কেনা যায়, কিন্তু বিচার থেকে পালানো যায় না।' সমন আসতেই অরূপ বিশ্বাসের অসুস্থ হয়ে পড়াকে নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টিকে কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ তিনি। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'মন্ত্রী মশাই, দুঃখিত প্রাক্তন মন্ত্রী মশাই, অনেক কষ্ট দিয়েছেন আমায়। ছাড়ব আমি না।'
গত ১৭ মে অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্তের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং তাঁকে বিধান নগর থানায় তলব করা হয়। এর আগে এই মামলায় তিনি বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির ৩(৫), ৩০৮ (২), ৩১৮(৪), ৩৫১(২), ৬১(২) ধারা অর্থাৎ টিকিটে কালোবাজারি, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা-সহ একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন মেসি ইভেন্টের আয়োজক। তাঁর দাবী, মেসি ইভেন্টের জন্য প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। একইসঙ্গে ত্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিকভাবে গ্লোবাল ফুটবল আইকন মেসির গায়েও হাত দেন তিনি বলেও অভিযোগ করেছেন শতদ্রু।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো দি’পল কলকাতায় এসেছিলেন। যুবভারতীতে ডিসেম্বরের এই হাইভোল্টেজ অনুষ্ঠান ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পারদ এতটাই চড়েছিল যে ১৮ হাজার টাকার টিকিট কালোবাজারির কারণে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কলকাতার সেই অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত সুপারফ্লপ হয়।
গ্যালারি ভেঙে শ'য়ে শ'য়ে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। সেদিন কলকাতার চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখেছিল গোটা বিশ্ব। দেশের বাকি তিন শহর মুম্বই, দিল্লী ও হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান সফল হলেও কলকাতায় এই পরিণতির জেরে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সে সময় জেলেও যেতে হয়েছিল। এবার রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ খুলেছেন শতদ্রু। বেশ কয়েকদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে একের পর বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারও দিয়ে চলেছেন। তাঁর সাফ কথা, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর কাছে জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক টিকিট ও পাসের দাবী করেছিলেন।
শতদ্রুর দাবী, টিকিট দিতে আপত্তি জানালে মন্ত্রী রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে নাকি বলেছিলেন, “এই মাঠ তো আমার, আমি তোর থেকে পারমিশন নেব কেন?” শতদ্রুর আরও অভিযোগ, মন্ত্রী জোর করে মেসির কাঁধে-বুকে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন। তিনিই পরিবারের লোকেদের মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে অশোভন আচরণ করেছেন।


No comments:
Post a Comment