কলকাতা: মহিলাকে মারধর, শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্ৰেফতার কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলার। ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তিনি ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ করেন এক মহিলা। শুধু তাই নয়, তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে জানান ওই মহিলা। এহেন অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। এরপরেই আজ, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ধৃত বিশ্বজিৎ। পরপর তিনবার এই ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলর হন তিনি। মহিলার অভিযোগ, গত মাসের ৯ তারিখ তাঁকে আটকে রেখে অভিযুক্ত ওই কাউন্সিলর শ্লীলতাহানি করেন। দেওয়া হয় হুমকি। তবে এই ঘটনা নতুন নয়, গত ২০২৪ সালেও একইভাবে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ ওই মহিলার। এরপরেই এই বিষয়ে গত ১ জুন রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে, ধৃত বিশ্বজিৎ টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত।
উল্লেখ্য, বুধবারই ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ কুমার শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, গত বছর ধৃত এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বড়বাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। প্রতারণা ও জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। সরকারের পালাবদলের পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এরপর বুধবার রাতে ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ভোট মেটার পরে রাজ্য জুড়ে একের পর এক তৃণমূলের নেতা-জনপ্রতিনিধিরা গ্রেফতার হয়েছেন হুমকি, তোলাবাজি, দুর্নীতির অভিযোগে। কলকাতা পুরসভারও একাধিক কাউন্সিলার এই তালিকায় রয়েছেন। গত ২ জুন তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শচীন সিং।
বুধবার গ্রেফতার হয়েছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মাও। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগ। এর আগে গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন তৃণমূল কাউন্সিলার সুদীপ পোল্লে। তিনি কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ১৬ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান।

No comments:
Post a Comment