নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার, ০৪ জুন ২০২৬: কাটমানি, তোলাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ, শেষে খাটের তলায় আশ্রয় নিলেন তৃণমূল নেতা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার মাথাভাঙা এলাকায়। এই তৃণমূল নেতা আবার পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার। এদিন তাঁর এহেন কীর্তি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠা মাথাভাঙায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত খাটের তলা থেকে গ্রেফতার হতে হল এক তৃণমূল নেতাকে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম শহিদুল মিঞা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার গরিব মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ঘরপিছু ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তোলাবাজি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি এবং দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। তৃণমূলের আমলে এলাকায় রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াতেন এই নেতা। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। এতদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেন এলাকার সাধারণ মানুষ। এদিন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেগতিক বুঝে ওই তৃণমূল নেতা তথা সিভিক ভলান্টিয়ার বাড়ির একটি ঘরের খাটের তলায় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু ঘরে ঢুকে প্রথমে ওই নেতার সন্ধান মেলেনি। চারদিকে তল্লাশি চালানোর পর অবশেষে ঘরের খাটের তলা থেকে পুলিশ তাঁকে হাতেনাতে উদ্ধার করে। খাটের নীচে লুকানো অবস্থা থেকেই তাঁকে টেনে বার করে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিকে গ্রামবাসীদের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

No comments:
Post a Comment