কলকাতা: বিধানসভায় 'সই কেলেঙ্কারি' কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ দিয়েছে সিআইডি। আগামী ৮ জুন ভবানী ভবনে তাঁকে তলব করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার সেই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। গ্ৰেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচেরও আর্জি জানান অভিষেক। শুক্রবার সেই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলে তা ধোপে টিকল না। বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১০ তারিখ ওই মামলার শুনানি হবে।
এর আগে ১ জুন অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু ৩১ মে সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন অভিষেক। এরপর শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে তিনি হাজির হননি। তাঁর তরফে ১৫ দিন সময় চাওয়া হলে সিআইডি তাঁকে ৮ জুন হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিন অভিষেকের আইনজীবীরা বিচারপতি দাসের এজলাসে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। এমনকি, দু'বার তাঁরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু বিচারপতি কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেননি। ফলত, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের এই মুহূর্তে কোনও রক্ষাকবচও নেই। এদিকে ৮ তারিখেই বিজেপি বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও দিল্লী যাওয়ার কথা। তাহলে এমতাবস্থায় সোমবার কি সিআইডি-র ডাকে অভিষেক সাড়া দেবেন? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিতে অভিষেকের তরফে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল। ওই চিঠিতে কয়েকজনের সইয়ের ক্ষেত্রে 'অসঙ্গতি' রয়েছে বলে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানান তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সেই সূত্রেই তদন্তকারীরা বেশ কয়েকজন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের পর অভিষেককেও তলব করে। তাঁদের যুক্তি, ওই চিঠিতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেকের সই ছিল। সেই কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পরে দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। কিন্তু পরের দিনই বহিষ্কৃত ঋতব্রতের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক স্পিকারকে চিঠি দেন। অধ্যক্ষ সেই চিঠির ভিত্তিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতিও দেন। আর এতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ভাঙন। আর বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেই ঋতব্রত সাফ জানিয়ে দেন, তাঁদের এই পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই।

No comments:
Post a Comment