কলকাতা: কয়লা চুরি, বালি চুরি, চাকরি চুরি তো ছিলই, শেষমেষ কিনা বালতি চুরি! তৃণমূল নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের চুরির বহর দেখে লজ্জা পাবে চোরেরাও। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রায়বাহাদুর রোড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কোম্পানির জমি থেকে উদ্ধার হয় কলকাতা পুরসভার কয়েক লক্ষ বালতি। ময়লা ফেলার জন্য নাগরিকদের পৌরনিগমের তরফে এই বালতি দেওয়ার কথা। পৌরনিগমের সেই লক্ষ লক্ষ বালতিই এদিন এভাবে উদ্ধার হল।
রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে ওই জমির ভিতরে বিপুল পরিমাণ বালতি মজুত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর বিষয়টি জানানো হয় দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সম্পাদক তারক বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তিনি। ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংয়ের বিরুদ্ধে বালতি চুরির অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, গোটা জমি জুড়ে প্রচুর সংখ্যক কলকাতা পুরসভার বালতি পড়ে রয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তারক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, পরিত্যক্ত কোম্পানির মালিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে, ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিং ওই বালতিগুলি কোম্পানির মালিকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা তারক সিংয়ের কন্যা হলেন এই কৃষ্ণা সিং।
বিজেপির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কীভাবে কলকাতা পুরসভার সরকারি সামগ্রী একটি বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হল? যদিও ওই কোম্পানির একজন দাবী করেন, ৪-৫ বছর আগে ওই বালতিগুলি এখানে রাখা হয়েছিল। কাউন্সিলর তাঁদের বলেছিলেন, এত বালতি রাখার জায়গা নেই। তাই, তাঁদের এখানে রাখবেন। পরে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হবে। তাঁর দাবী, কিছু বালতি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেহালা থানায় জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাতেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আগের তৃণমূল সরকারের মাটি চুরি, বালি চুরি, পাথর চুরি, চাকরি চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। আর এবারে এল বালতি চুরি কাণ্ড, কটাক্ষ বিজেপির।
পৌরনিগমের বালতি উদ্ধার নিয়ে বিজেপি কাউন্সিলর তথা বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “এরা কত কিছু চুরি করে। এবার বালতি চোর। শেষে বালতি বেচে খেতে হবে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।”
উল্লেখ্য, বেহালার ওই এলাকায় কৃষ্ণা সিংয়ের পরিবারের যথেষ্ট দাপট রয়েছে। তিনি ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আর তাঁর ভাই অমিত সিং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আবার তাঁদের বাবা তারক সিং ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

No comments:
Post a Comment