কলকাতা: আজ, ২রা জুন। কলকাতার ধর্মতলা চত্বরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান বিক্ষোভ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই কর্মসূচিকে ঘিরে, কারণ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলের প্রতিবাদী অবস্থান তুলে ধরতেই এই ধরনার আয়োজন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা ধর্মতলায় জমায়েত হতে শুরু করেন। সকাল থেকেই মেট্রো চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনা মঞ্চে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর, তিনি দুপুর ২টো নাগাদ ধর্মতলায় পৌঁছতে পারেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। মঞ্চ থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী, জনগণের স্বার্থে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ধরনা মঞ্চে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক ও শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধর্মতলা বরাবরই রাজ্যের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। অতীতেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখান থেকেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শাসকদল। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই ধরনাও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে, ধরনাকে কেন্দ্র করে শহরের যান চলাচলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
ধর্মতলা চত্বরে বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মহিলা পুলিশ রাখা রয়েছে বেশ বেশি সংখ্যায়। ওয়াই চ্যানেল, মেট্রো চ্যানেল, রানি রাসমণি রোড, সব জায়গাতে পুলিশ তো আছেই, সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও কোনও মঞ্চ বা প্যান্ডেল কোথাও হয়নি। অনুমতিও নেই।
উল্লেখ্য, প্রথমে রানি রাসমণি রোডে ধরনায় বসার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ধরনার একদিন আগে পুলিশি অনুমতি না মেলায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। বিকল্প হিসাবে ওয়াই চ্যানেলে ২ ঘন্টা বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। আর এই নিয়ে সোমবার সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে মিটিং মিছিলে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এদিনের কর্মসূচি যে হবেই, সেটাও জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
একেই নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের অন্দরের ফাটল চওড়া হচ্ছে। দুজন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। এছাড়াও ৫০ বিধায়ক বিদ্রোহী এবং নতুন তৃণমূলের জল্পনা তীব্র হয়েছে। এমতাবস্থায় কতজন বিধায়ক এদিন এই কর্মসূচিতে যোগ দেন, সেদিকেও তাকিয়ে বিভিন্ন মহল।

No comments:
Post a Comment