বিদ্রোহের আবহে মমতার বড় পদক্ষেপ! ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের, নতুন দায়িত্বে মদন-চন্দ্রিমা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, June 5, 2026

বিদ্রোহের আবহে মমতার বড় পদক্ষেপ! ডানা ছাঁটা হল অভিষেকের, নতুন দায়িত্বে মদন-চন্দ্রিমা


কলকাতা: দলের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। মমতা-হীন বৈঠকে ৫৮ জনের সমর্থনে বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদেও এই আঁচ পৌঁছেছে। সেখানেও বিদ্রোহীদের তালিকা লম্বা হচ্ছে। বারবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার দাবী উঠেছে। এই আবহে নিজের হাতে নতুন করে দল সাজালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাঁটা হল অভিষেকের ডানা। শুক্রবার কালীঘাটে জাতীয় কার্যনির্বাহীর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


অভিষেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন, কিন্তু ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। অভিষেক সাহায্য করবেন এই দুই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে করে এবার থেকে আর কোনও সিদ্ধান্ত হয়তো অভিষেক একা নিতে পারবেন না। 


নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। এই আবহেই সম্প্রতি দলের সমস্ত সংগঠন, শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়। এবারে নতুন করে সাজানো হল দল। রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। এই পদ এতদিন সুব্রত বক্সি সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় এই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। এবার থেকে তিনি জাতীয় কার্যকরী কমিটির সহ সভাপতি হিসাবে কাজ করবেন। 


অন্যদিকে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী হলেন মালা রায়। ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী। অন্যদিকে আইএনটিটিইউসি-র সভাপতি হচ্ছেন মলয় ঘটক। আগে এই পদে ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য সহ সভাপতি করা হয়েছে। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।


পাশাপাশি, যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সায়নী ঘোষকে। যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মধুরিমা ঠাকুরকছ। দলের রাজ্য মুখপাত্র হয়েছেন কুণাল ঘোষ। মুখপাত্র হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও মদন মিত্রও থাকছেন। জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব থাকছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় ট্রেড ইউনিয়ন এবং হকার ইউনিয়ন দেখবেন মদন মিত্র। কৃষক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেচারাম মান্নাকে। খেত মজদুর সংগঠনের দায়িত্ব পূর্ণেন্দু বসু। তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংগঠন দেখবেন বীরবাহা হাঁসদা। কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী।


উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠকে একজন বিদ্রোহী বিধায়কেরও দেখা মেলেনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ-সহ বেশ কয়েকজন পুরনো তৃণমূল নিয়েই হয় এদিনের বৈঠক।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad