ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৪ জুন ২০২৬: বেসরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে, তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা নাগাদ বিহারের মুজাফফরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আগুন লাগে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে বারোটি দমকলের গাড়ি পৌঁছেছে। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আইসিইউ ওয়ার্ডে ধোঁয়া ভরে যাওয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, আইসিইউ ওয়ার্ডে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনজন রোগী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাণপন চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অবস্থিত আইসিইউ ওয়ার্ডে আগুন লাগে। মৃতদের আত্মীয়রা শোকে মুহ্যমান। এসএসপি এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ বেশ কয়েকজন আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তারা উদ্ধার অভিযানের খোঁজখবর নেন এবং হাসপাতালে থাকা রোগীদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কাজ করছিল না। আগুনের খবর পেয়ে হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাঁদের পরিবার পালাতে সক্ষম হলেও, আইসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের জন্য ঘটনাটি ভয়াবহ প্রমাণিত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন রোগী শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। তিন জনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, আইসিইউ ওয়ার্ডে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো আইসিইউ ধোঁয়ায় ভরে যায়। আশেপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্রায় ছয়টি দমকল বাহিনীর গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীরা যথেষ্ট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অনেক রোগীকে নিকটবর্তী অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাস্থল ছিল আর্তনাদ ও আতঙ্কে পরিপূর্ণ। রোগীদের পরিবারের লোকেরা তাঁদের খোঁজখবর না পেয়ে চিন্তায় পড়ে যান।
দমকল বিভাগের আধিকারিক রাম নিবাস পান্ডে প্রাথমিক ভাবে জানান যে, পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, "বর্তমানে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানানো কঠিন। আগুনের কারণে আইসিইউ-তে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছি।"
মুজাফফরপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত কুমার সেন বলেন, "আইসিইউতে প্রায় ১৩ জন রোগী ছিলেন এবং আরও কয়েকজনকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা প্রশাসনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং দুর্ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো শহরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে, যে কারণে এমন ঘটনা ঘটে।

No comments:
Post a Comment