দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শওকত মোল্লার বাড়িতে সাতসকালে এনআইএ হানা। ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই ঘটনায় এলাকায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের জানা গিয়েছে, ভাঙড়ে নির্বাচনের সময়ে বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছেছে এনআইএ দল। বর্তমানে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর জীবনতলার বাড়িতে পৌঁছয় এনআইএ-র একটি দল। বিধানসভা ভোটের কিছুদিন আগেই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় একজনের এবং আহত হন বেশ কয়েকজন। এই ঘটনায় আইএসএফের পক্ষ থেকে এনআইএ তদন্তের দাবী করা হয়েছিল।
গত মার্চ মাসে ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু করে এনআইএ। ওই বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান বলে জানা যাচ্ছে। বিস্ফোরণে ঘটনার তদন্তে নথি খতিয়ে দেখা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলেই জানা গিয়েছে।
তবে বাড়িতে নেই শওকত মোল্লা। তিনি কোথায়? উত্তর নেই কারো কাছে। শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লাকে নিয়ে আসা হয় ওই বাড়িতে। তাঁকে নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকেছেন তদন্তকারীরা। বাড়িতে আসেন শওকতের স্ত্রী-মেয়েও। বাড়ি ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান চলছে। শওকত মোল্লার কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়।
জানা গিয়েছে, ভাঙরের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলে বামুনিয়ার যে এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল সেই গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও যায় এনআইএ-র তদন্তকারী দল। ঘটনার তদন্তভার নিয়ে এনআইএ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। ওই ঘটনার তদন্তে এবার শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ-র বিশেষ প্রতিনিধি দল।
উল্লেখ্য, ক্যানিং পূর্ব থেকে জিতেই বিধায়ক হয়েছিলেন শওকত। এবার অবশ্য তাঁকে ভাঙড়ে লড়তে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন আইএসএফ-এর নওশাদ সিদ্দীকি। আর নওশাদের বিরুদ্ধে বিপুল ভোটে হারতে হয় তাঁকে। এরপর থেকেই রাজনীতির ময়দান থেকে কার্যত নিরুদ্দেশ ছিলেন শওকত। তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। আর তারপরই শওকতকে ঘিরে নানান জল্পনা রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, তৃণমূলের অন্দরেই একটা সময় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শওকত। তাঁকে ইচ্ছে করেই ক্যানিং পূর্ব থেকে সরানো হয় এবং তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভাঙড়। সেখানে তিনি বিপুল ভোটে হেরে যান।
এদিকে তৃণমূলের জন্য বুধবার ছিল 'মন্দ' দিন। এদিন স্পিকারের সবুজ সংকেত পেয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। আবার এই ঋতব্রতর সঙ্গেই বুধবার রাতে দেখা করেন শওকত মোল্লা। সূত্রের খবর, ঋতব্রতর সঙ্গে বিধানসভায় দশ মিনিট মতো কথা হয় শওকতের। বিরোধী দলনেতার ঘরেই হয় কথোপকথন। আর আচমকা ঋতব্রতর সঙ্গেই শওকতের এই সাক্ষাৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে এনআইএ-র এই অভিযানকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনও পর্যন্ত এনআইএ-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে তদন্তকারীরা বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করছেন বলে সূত্রের খবর। এদিন সকালেই একাধিক গাড়ি নিয়ে আসেন এনআইএর কয়েকজন আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। শওকতের বাড়ির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও চলছে তল্লাশি অভিযান।

No comments:
Post a Comment