ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩০ জুন ২০২৬: সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান আবারও ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, “কেউ যদি আমাদের জল স্পর্শ করে, আমরা তার হাত কেটে ফেলব।” মুসাদিকের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো সিন্ধু জল চুক্তি (আইডব্লিউটি) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করে। ভারত জানায় যে রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না। পহেলগাম হামলায় ২৬ জন নাগরিককে নৃশংস খুনের পর সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। এর পর থেকে পাকিস্তান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সোমবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন যে, ভারত জল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের জলের অধিকার হুমকির মুখে পড়লে তিনি ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেন। মালিক বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জলের কলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি দাবী করেন যে, তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটাও জল পৌঁছাতে দেবেন না। এরপর মালিক বিষোদগার করে ভারতকে হুমকি দেন যে, আমাদের জল স্পর্শ করার চেষ্টা করলে তিনি তার হাত কেটে ফেলবেন।
তিনি বলেন, 'আমরা ঘোষণা করেছি যে, আমাদের জল স্পর্শ করার চেষ্টা করলে আমরা তার হাত কেটে ফেলব। আমরা শুধু এই ঘোষণাই করিনি বরং গত দেড় বছরে দুবার দেখিয়ে দিয়েছি যে আমরা যে কারও হাত কেটে ফেলব।'
তিনি আরও বলেন, "এটা ন্যায়বিচারেরও প্রশ্ন। আমরা আত্মরক্ষা করব। আমাদের সেনাবাহিনী দু'বার দেখিয়ে দিয়েছে যে, শুধু জল নয়, হাওয়াও স্পর্শ করলে আমরা হাত ধরে ফেলব।" তিনি বলেন যে, একটি কল আছে, তাতে জলও আছে, যা আমাদের প্রতিবেশী দেশ (ভারত)-এর প্রধানমন্ত্রী স্পর্শ করেছেন, যিনি বলেন যে, তিনি এক ফোঁটাও পাকিস্তানে বইতে দেবেন না।
দ্য নিউজ পাকিস্তানের একটি প্রতিবেদন অনুসারেও মালিক বলেছেন, "যে কেউ পাকিস্তানের জলে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি অভিযোগ করেছেন যে ভারত চুক্তিটি মেনে চলছে না।
মালিক বলেন, "সিন্ধু জল চুক্তি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং পাকিস্তান সবসময় তা সম্মান করে এসেছে। আমরা কাউকে আমাদের অধিকার লঙ্ঘন করতে দেব না।" তিনি আরও বলেন, "জলের কল আমাদের প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে, যিনি বলেন যে পাকিস্তানে এক ফোঁটাও জল বইতে দেবেন না।"
এই বিষয়ে পাকিস্তানকে ভুক্তভোগী হিসেবে চিত্রিত করে মালিক আক্ষেপ করে বলেন, "ঢালে বসবাসকারীদের জল আটকানোর অধিকার কি সবার আছে?" তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোনও চুক্তি ছাড়াই জল প্রবাহিত হচ্ছে, তাহলে এখানে তা কীভাবে থামানো যাবে? তিনি বলেন, পাকিস্তান দমে যাবে না এবং এই বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে।
অন্যদিকে তারার বলেন, "সিন্ধু জল চুক্তি এখনও বলবৎ আছে কারণ কোনও মঞ্চেই ভারতের অবস্থান গৃহীত হয়নি।" তিনি আরও বলেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছেন যে, জল আমাদের জীবনরেখা এবং রেড লাইন।
সম্প্রতি, সিন্ধু জল চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের জল সরবরাহ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে, যদি তাদের জল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ে, তবে এই ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে লড়াই করতে পাকিস্তান পিছপা হবে না। খাজা সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা এবং জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতির জন্য ভারতের সমালোচনা করেন।
২৩শে জুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা এই বিষয়ে কিছু প্রতিবেদন দেখেছি। এই ধরণের প্রতিবেদনগুলো হল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য পাকিস্তানের মরিয়া প্রচেষ্টা।" তিনি বলেন, 'আমরা এই মনগড়া দাবীগুলোকে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।'


No comments:
Post a Comment