কলকাতা: মেসি কাণ্ডে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল আজই। কিন্তু কোথায় প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস? মিলছে না খোঁজ। এখনও থানায় হাজিরা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টে পাননি রক্ষাকবচও। এরই মাঝে বেহালার সাহাপুর কলোনিতে অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে বিশাল পুলিশবাহিনী। বিশ্বাস ব্রাদার্সের ফ্ল্যাট ঘিরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ওই ফ্ল্যাটে পরিবারের লোকজন নিয়ে থাকতেন স্বরূপ বিশ্বাস। অরূপেরও যাতায়াত ছিল এখানে। সূত্রের খবর, ফ্ল্যাটের ভিতরে জোর তল্লাশি অভিযান চলছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি সহ একাধিক অভিযোগ প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। টলিপাড়ায় দুই ভাইয়ের দাপটে টেকা ছিল দায়, এমন অনেক অভিযোগ সামনে আসছে। আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তিনি। এই ফ্ল্যাটে কোনও নথিপত্র আছে কিনা, সম্ভবত সে সংক্রান্ত তথ্যের খোঁজে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ আধিকারিকদের 'বিশ্বাস ব্রাদার্সে'র বাড়িতে এই হানা বলেই খবর।
এদিকে মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। ৫ জুনের মধ্যে তাকে হাজিরা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের তলব এড়িয়ে যান তিনি। আর মেসিকাণ্ডে প্রথম দফায় হাজিরা এড়ানোর পর, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে নোটিশ টাঙিয়ে আসে পুলিশ। আজ সোমবার সকাল ১১ টার য়ধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরা দিতে বলা হয়। আর দ্বিতীয় নোটিশেও প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী না এলে, কড়া পদক্ষেপের ভাবনা, এমনই খবর পুলিশ সূত্রে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, প্রথম নোটিশ পাওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও, কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেননি অরূপ।
এরমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে অস্বস্তিতে পড়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন জানিয়ে, আগামীকাল শুনানির আর্জি করা হয়েছিল কিন্তু অরূপ বিশ্বাসের সেই আবেদনে মান্যতা দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, এই ধরণের মামলাকে এভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া যায় না, শুনানি হবে নিয়ম মেনে। পাশাপাশি গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকলে আগাম জামিনের আবেদন করতে বলে হাইকোর্ট।
এদিকে, সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও অরূপের দেখা মেলেনি। ওদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন দুপুরের মধ্যে অরূপ হাজিরা না দিলে, কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। এসবের মাঝেই পুলিশের এই অভিযান। অতএব মেসি কাণ্ডে অরূপের বিপদ যে বাড়ছে, সেটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, অরূপের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে- অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রড্রিগো দি’পল কলকাতায় এসেছিলেন। যুবভারতীতে এই হাইভোল্টেজ অনুষ্ঠান ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পারদ এতটাই চড়েছিল যে ১৮ হাজার টাকার টিকিট কালোবাজারির কারণে ৭০ হাজার টাকা দামে পর্যন্ত বিক্রি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কলকাতার সেই অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত সুপারফ্লপ হয়।
গ্যালারি ভেঙে শ'য়ে শ'য়ে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। সেদিন কলকাতার চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখেছিল গোটা বিশ্ব। দেশের বাকি তিন শহর মুম্বই, দিল্লী ও হায়দরাবাদে অনুষ্ঠান সফল হলেও কলকাতায় এই পরিণতির জেরে আয়োজক শতদ্রু দত্তকে সে সময় জেলেও যেতে হয়েছিল। এবার রাজ্যে পালাবদলের পরেই মুখ খুলেছেন শতদ্রু। বেশ কয়েকদিন ধরেই সংবাদমাধ্যমে একের পর বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারও দিয়ে চলেছেন। তাঁর সাফ কথা, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর কাছে জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক টিকিট ও পাসের দাবী করেছিলেন।
শতদ্রুর দাবী, টিকিট দিতে আপত্তি জানালে মন্ত্রী রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে নাকি বলেছিলেন, “এই মাঠ তো আমার, আমি তোর থেকে পারমিশন নেব কেন?” শতদ্রুর আরও অভিযোগ, মন্ত্রী জোর করে মেসির কাঁধে-বুকে হাত দিয়ে ছবি তুলেছেন। তিনিই পরিবারের লোকেদের মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে অশোভন আচরণ করেছেন।

No comments:
Post a Comment