কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে প্রবল ঝড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তিনি দিল্লী উড়ে গিয়েছেন। সেখানে বিরোধী জোটের বাইরে রয়েছে সোমবার। এর আগে শনিবারের দিল্লী পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার এরই মাঝে গুঞ্জন আজই বিধানসভার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে সংসদে। বিধায়কদের মতোই সাংসদরাও অভিষেককে তাঁদের নেতা মানতে নারাজ। এতে করে বিদ্রোহ আর বাড়ছে। সব মিলিয়ে আজকের এই সোমবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই বোমা ফাটালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু বিদ্রোহী বিধায়করাই নন, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে।' ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবী, তৃণমূলের বেশ কয়েক জন সাংসদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও কারা যোগাযোগ করছেন, তা তিনি খোলসা করেননি। এর আগে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও সাংসদদের 'নতুন তৃণমূল'-এর জল্পনা উস্কে দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে দাবী করেছিলেন, 'তৃণমূলের লোকসভার অধিকাংশ সাংসদ দলবদল করতে পারেন।' সেই মন্তব্যে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ঋতব্রতর বক্তব্য সেই জল্পনাই আরও উস্কে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
রাজ্যে তৃণমূলে এখন কার্যত দু'টি গোষ্ঠী; ঋতব্রতর 'নতুন তৃণমূল' ও মমতার 'পুরনো তৃণমূল'। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত। তবে ঋতব্রতর সেই পদপ্রাপ্তি মানতে নারাজ 'মূল' বা 'পুরনো' তৃণমূল। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রে খবর। এহেন পরিস্থিতিতে ঋতব্রতর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাক্ষাৎকারে ঋতব্রত আরও দাবী করেন, বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আগামীদিনে আরও বদলাতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋতব্রত। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের বিধানসভা দলের উপদেষ্টা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চান। অর্থাৎ, দল 'ভাগ' হলেও পরামর্শদাতা হিসেবে সেই মমতাকেই চাইছেন ঋতব্রতরা।
এখন তৃণমূল-তৃণমূল এই বিবাদের জল কোথায় গড়ায়, সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

No comments:
Post a Comment