কলকাতা; উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এই রাজ্যেও চালু হয়েছে 'বুলডোজার কালচার'। রবিবার রাতে যাদবপুরে স্টেশন চত্বরে বুলডোজার অভিযান। বাম-কংগ্রেসের হাজার চেষ্টার পরও 'অ্যাকশন' আটকানো গেল না। প্রতিরোধ ভাঙতে হল লাঠিচার্জ। অন্যদিকে বুলডোজারে ভাঙল হকারের দোকান। যার জেরে রাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল যাদবপুর। একেবারে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি।
এ দিন যে যাদবপুরের স্টেশন চত্ত্বরে উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া দোকানগুলিতে বুলডোজার চলতে পারে, তেমন আশঙ্কাই ছিলই। তারপরই সেখানে উপস্থিত হতে থাকেন বাম এবং কংগ্রেস নেতাকর্মীরা। তবে তাঁদের উপস্থিতিতেও আটকানো যায়নি বুলডোজারের কার্যকলাপ বরং রাতেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক দোকান।
যতদূর খবর, রবিবার রাতেই যাদবপুর স্টেশন চত্ত্বরে উপস্থিত হতে থাকে বুলডোজার। তারপরই সেখানে জমায়েত শুরু করেন বাম এবং কংগ্রেসের একাধিক নেতা। সেখানে ধীরে ধীরে যান সৃজন ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তীর মতো বাম নেতারা। এছাড়া প্রদীপ প্রসাদ, সৌরভ প্রসাদ, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় সহ কংগ্রেস নেতা ও কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। প্রথমে তাঁরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এরপর উপস্থিত পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। হকারদের পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না বলে স্লোগান উঠতে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে বুলডোজারের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে শুরু হয়ে যায় লাঠিচার্জ বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে অ্যাকশন শুরু করে দেয় বুলডোজার। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় স্টেশন চত্ত্বরের দোকান। তার জেরেই মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বাম এবং কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় অনেক নেতা এবং কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এই ঘটনায় সিপিআইএম নেতা তথা এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে।
তাঁকে পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, “আমরা আছি। বেআইনি কাজ করছে রেল। আদালত ও আইনকে উপেক্ষা করে উচ্ছেদ করতে এসেছে তারা।" তাঁর দাবী, তাঁকে জোর করে বেআইনি ভাবে আটক করা হয়েছে। উচ্ছেদ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত হন নাট্যকর্মী জয়রাজ ভট্টাচার্য-সহ অনেকে। জয়রাজের মাথা ফেটেছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন স্টেশন লাগোয়া যে রেল সাইডিং এরিয়া সেখানে বহু বিল্ডার্স ও এন্টারপ্রাইজের অফিস ছিল, সেগুলো সব ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল। আরপিএফ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে এদিন। স্টেশন লাগোয়া রেল চত্বরে বেশ কিছু ঝুপড়িও এদিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

No comments:
Post a Comment