শিলিগুড়ি: গত দু’দিন ধরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে প্রশাসন—সকলেই অপেক্ষা করছিলেন কোনও সুখবরের আশায়। কিন্তু সেই আশার প্রদীপ শেষ পর্যন্ত নিভেই গেল তিস্তার উত্তাল স্রোতে। রবিবার তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হল সিকিমের চার নিখোঁজ বাসিন্দার মৃতদেহ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের একটি শিশুও। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা সিকিমে।
জানা গিয়েছে, গত ৫ জুন গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন স্মারিকা নিওপানে (২৮), শৈব্যা নিওপানে (২৭), টিকা দাহাল (২৭) এবং পাঁচ বছরের দিত্যা ছেত্রী। পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য তাঁরা শিলিগুড়িতে আসছিলেন। কিন্তু পথেই ভয়ঙ্কর বিপদ ওত পেতে আছে, কে জানত! প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসের মধ্যে তাদের গাড়ির সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা।
এরপর আত্মীয়দের অভিযোগ পেয়ে শনিবার সকাল থেকে সিকিম প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিখোঁজ চার জনের সন্ধানে যৌথ তল্লাশি শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় বাগপুল সংলগ্ন তিস্তা নদীতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধারকারী দল নদীর গভীরে ডুবে থাকা গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গাড়ির কিছু অংশও খুঁজে পাওয়া যায়। তবে অন্ধকার নেমে আসা এবং নদীর প্রবল স্রোতের কারণে সেদিন উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে রাতভর উদ্বেগের মধ্যেই কাটাতে হয় নিখোঁজদের পরিবারকে।
রবিবার সকালে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ফের অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার চেষ্টার পর নদীর গভীর থেকে গাড়ির বাকি অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গাড়ির ভিতর থেকেই উদ্ধার হয় চারজনের নিথর দেহ। উদ্ধারকারী আধিকারিকদের মতে, গাড়িটি নদীর অত্যন্ত গভীর অংশে আটকে থাকায় উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর উত্তরবঙ্গের কমান্ডার অজয় কুমার বলেন, “নিখোঁজ হয়ে যাওয়া গাড়িটির খোঁজ মেলে করোনেশন সেতুর কাছে। গাড়ির মধ্যেই চারটি মৃতদেহ মিলেছে।”
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খারাপ আবহাওয়া ও ভূমিধসের জেরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিস্তায় পড়ে যায়। দু’দিনের প্রতীক্ষার শেষে চারজনের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে সিকিমের লিংডক-কাবি লুংচক এলাকা। তিস্তার বুকে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও পাহাড়ি সড়কে বর্ষাকালীন যাত্রার ঝুঁকির কঠিন বাস্তবতাকেই যেন তুলে ধরেছে।

No comments:
Post a Comment