কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একের পর এক কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। প্রাক্তন শাসক দলের দুর্নীতির খবর দিন-প্রতিদিন সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছে। গ্ৰেফতার হচ্ছেন একের পর এক নেতা। এছাড়াও বিধায়ক-সাংসদের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু বীরভূমে উলটপুরান। সেখানে ৫ তৃণমূল বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে রাজ্য।
একসময়ের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিরোধী আসনে। সেখানেও আবার তাদের আসন টলমল। অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়ে 'নতুন তৃণমূল' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দলের বিধায়কদেরই একাংশ। এর প্রভাব পড়েছে বীরভূম জেলা রাজনীতিতেও। জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র পাঁচটি আসনই নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সরকারি পালাবদল হতেই যখন তৃণমূলের একাধিক নেতা বিধায়কদের একে একে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই আবহে বীরভূমের বিধায়কদের ক্ষেত্রে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধায়ক কাজল শেখ, নলহাটির বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং, মুরারইয়ে্য বিধায়ক মোশারফ হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুর বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা এবং নানুরের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝির। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রত্যেক বিধায়কের জন্য অতিরিক্ত দু’জন করে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে মাত্র ৮০ টি আসন জিততে পেরেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের তাবড়-তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের সিংহভাগই গেরুয়া ঝড়ে ত্রস্ত। এরই মাঝে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া; ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ফাটলও চওড়া হয়েছে। দল বিরোধী আচরণের জন্য ঋতব্রত-সন্দীপনরা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বাদ পড়তেই বিধায়কদেরই একাংশ নাম লিখিয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’-এ। ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনের সমর্থন নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার চেয়ারে বসেছেন। ঋতব্রতকে সমর্থন করা বিধায়কদের মধ্যেই আছেন বীরভূমের এই পাঁচ বিধায়কও। এবারে জেলার ওই পাঁচ বিধায়কের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার। তাহলে কি 'নতুন তৃণমূল' বলেই এই প্রাপ্তি? উঠছে প্রশ্ন।

No comments:
Post a Comment