কলকাতা: তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রর গাড়ি লক্ষ্য করে উড়ে এল ডিম। বিধায়ককে দেখেই উঠল 'চোর চোর' স্লোগান। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কামারহাটির আড়িয়াদহে। শনিবার রাতের এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। ঘটনার পরে মদন মিত্র নিজে ফেসবুক লাইভ করেন। তাঁর কথায়, 'মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখলাম।'
কামারহাটির আড়িয়াদহ এলাকায় একটি গণ্ডগোলের খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। তার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর গাড়ির উপর হামলা চলে বলে অভিযোগ। গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ডিম। ওঠে 'চোর চোর' স্লোগান। গাড়ির চালককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। যদিও সেই সময় মদন মিত্র ওই গাড়িতে ছিলেন না বলেই খবর। চালক দ্রুত ওই এলাকা থেকে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিক্ষোভের ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ।
বাস্তবে মদন মিত্র একজন বহুবলি বিধায়ক হলেও এদিন এই উন্মত্ত জনতাকে দেখে তিনি ভীষণ ভয় পেয়ে যান। যদিও এই সময় গাড়িতে মদন মিত্র ছিলেন না, একথা ফেসবুক লাইভ করে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীর দিকে আঙুল তুলেছেন মদন। আনোয়ার খান নামে ওই বিজেপি কর্মী আগে তৃণমূল করতেন, এমনটাই দাবী তাঁর। ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন মদন।
তাঁর সাফ কথা, “কামারহাটির সবথেকে বড় খুনি আনোয়ার আগে আমাদের সঙ্গেও মিশতো। কিন্তু ও যখন যেমন তখন তেমনই হয়ে যেত।” ঘুরিয়ে একদা তৃণমূলই মদনকে আজ প্রাণে মারার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করছেন তিনি। মদনের দাবী, তারা আজ বিজেপি হয়েছে। ফেসবুক লাইভেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও সুর চড়িয়েছেন তিনি। গুলি চলেছে বলেও অভিযোগ করছেন। তবে প্রমাণ নেই, সেটাও বলছেন।
সিসিটিভি প্রকাশ্যে এনে কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে প্রমান করবেন বলেও বলেছেন কামারহাটির বিধায়ক। ফেসবুক লাইভে মদনকে একরাশ উদ্বেগের সঙ্গেই বলতে দেখা গেল, “আমি দক্ষিণেশ্বরে ব্লক ওয়ার্ড অফিসে যাব বলে বেরিয়েছিলাম। তখনই এই ঘটনা ঘটে। মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখলাম। কিন্তু রাখে হরি তো মারে কে! অনেক ভালো কাজের জন্য, বহু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মৃত্যুকে আমি চোখের সামনে দেখেও আবার আপনাদের কাছে ফিরে আসতে পারলাম।” এমনকি ওই লাইভেই দক্ষিণেশ্বরে তাঁর দলের এক কাউন্সিলরের বাড়ি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রাখে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। সেখানে নাকি জয় শ্রী রাম স্লোগানও ওঠে। ফেসবুক লাইভেই তিনি ডিজি, ব্যারাকপুরের সিপি-র দৃষ্টি আকর্ষণও করেন।
এদিকে শনিবার, সন্ধে থেকেই কামারহাটির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ চলে। এলাকার অটো ও টোটোচালকরা সেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই তৃণমূল কাউন্সিলর কাটমানি নিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেইসব টাকা ফেরতের দাবী উঠেছে। এসবের মাঝেই মদন মিত্রের গাড়িতে হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে একাধিক তৃণমূল নেতা, বিধায়ক, প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেফতার হচ্ছেন। তাঁদের অনেককেই লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হচ্ছে। সেই আবহেই এবার শনিবার রাতে মদন মিত্রের গাড়িতেও হল ডিম হামলা।

No comments:
Post a Comment