হাওড়া: পুলিশের ভয়ে শাড়ির স্তূপের নীচে লুকিয়ে তৃণমূল নেতা। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। শাড়ির গাঁঠরি সরাতেই বেরিয়ে এলেন উদয়ানারায়ণপুরের তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। সেখান থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আমতা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল এই ঘটনার ভিডিও, যা দেখে হাসির রোল নেট পাড়ায় (ভাইরাল ভিডিও সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ)।
স্থানীয়দের দাবী, উদয়নারায়ণপুরের বসন্তপুরের তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আবাসে কাটমানি, তোলাবাজি, দাদাগিরি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এমনকি ২০১১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসাতেও তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। আর রাজ্যে পালাবদলের পরে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের পরে আতঙ্কেও ছিলেন তিনি। নিজে গ্ৰেফতার হতে পারেন সেই আশঙ্কাও করছিলেন ব্রহ্মানন্দ। আর এর জেরে পালিয়েও বেড়াচ্ছিলেন।
শনিবার খবর মেলে কাপড়ের একটি গোডাউনে ওই তৃণমূল নেতা লুকিয়ে আছেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘিরে ফেলেন গোডাউনটি। তাঁদের সন্দেহ ছিল, এই গোডাউনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা লুকিয়ে আছেন। পরে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। আমতা থানার পুলিশ গোডাউনের ভিতরে ব্রহ্মানন্দকে খুঁজতে শুরু করে। যদিও প্রথমে সেখানে তৃণমূল নেতাকে দেখতে পাওয়া যায়নি। একেবারে শাড়ির স্তুপের নীচে লুকিয়ে ছিলেন সেই নেতা। সন্দেহ বাড়তে শাড়ির গাঁঠরি সরিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তখনই হাতেনাতে ধরা পড়েন ব্রহ্মানন্দ। এরপরেই পুলিশ গ্রেফতার করে ওই তৃণমূল নেতাকে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাথাভাঙায় কাটমানির অভিযোগ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জনরোষ থেকে বাঁচতে খাটের নিচে লুকিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে টেনে বার করে এবং গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আর এবারে শাড়ির স্তূপে লুকিয়ে বাঁচার চেষ্টা তৃণমূল নেতার।

No comments:
Post a Comment