দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সরিয়ে নিজের কার্যালয়ে মজুত রাখার অভিযোগ। মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালাল উত্তেজিত জনতা। ঘটনা ঘিরে রবিবার সন্ধ্যায় মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মথুরাপুর থানার পুলিশ।
অভিযোগ, সাংসদের কার্যালয় থেকে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। যদিও কার্যালয়ে ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংসদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংসদ বাপি হালদারের কার্যালয়ে প্রচুর সরকারি ত্রাণ মজুত করে রাখা হয়েছিল। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় মানুষজন তাঁর কার্যালয়ে হানা দেন। এরপরই বাপির অফিস থেকে বিভিন্ন সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার দুর্গত মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী না দিয়ে মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ নিজের কার্যালয়ে ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রেখেছিলেন। চুরি হওয়া সেই ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করতে স্থানীয়রা এদিন সাংসদ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। ওই কার্যালয় থেকে ত্রিপল-সহ বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি স্যানিটারি ন্যাপকিনও উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়াও এলাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, একটি খাল বুজিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই দলীয় কার্যালয়টি নির্মাণ করা হয়েছে।
কার্যালয়ে ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংসদ বাপি হালদার। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির পতাকা হাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এদিন অফিসে চার-পাঁচজন তৃণমূল কর্মী ছিলেন। তাঁদের মারধর করা হয়েছে। গণতন্ত্রে এটা কখনই কাম্য নয়। এঁরা রাজনৈতিক কোনও দলের লোক হতে পারে না। এরা দুষ্কৃতী। বিজেপির ঝাণ্ডা হাতে এই তাণ্ডব চালিয়েছে। বিজেপি যদি সত্যিই কোনও রাজনৈতিক দল হয় তবে এই আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।”

No comments:
Post a Comment