ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ জুলাই ২০২৬: মহারাষ্ট্রে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অনেক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের রায়গড় জেলার একটি এলপিজি (তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বোতলজাতকরণ কেন্দ্রও এর শিকার হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার সিলিন্ডার ভেসে গেছে। কর্তৃপক্ষ এখন একটি নির্দেশিকা জারি করে জনগণকে এই সিলিন্ডারগুলি না তোলার জন্য অনুরোধ করেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, প্রবল বৃষ্টির পর পাতালগঙ্গা নদীর জল এইচপিসিএল বটলিং প্লান্টে প্রবেশ করে। এই ঘটনাটি পানভেল তালুকের এমআইডিসি ক্যাম্পে ঘটেছে। এর ফলে খালি এবং ভরা উভয় ধরণের প্রায় ৩,০০০ এলপিজি সিলিন্ডার ভেসে যায়। বর্তমানে, আধিকারিকরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছেন এবং সিলিন্ডারগুলি খুঁজে বের করে উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।
রায়গড়ের কালেক্টর কিষাণ জাওয়ালে জনগণকে সিলিন্ডার না তোলার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, "স্রোতে ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলো যে নিরাপদ অবস্থায় আছে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। সেগুলো তুলে নেওয়া, খোলা বা ব্যবহারের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।" তিনি জনগণকে এই ধরণের ঝুঁকি না নিতে এবং নদীর কাছে সিলিন্ডার পেলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেন।
টানা বৃষ্টির কারণে মহারাষ্ট্রের অনেক অংশে নদী উপচে পড়ছে। রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং ভূমিধস ও জলাবদ্ধতা মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে নাসিক জেলায় গোদাবরী নদীর জলস্তর বেড়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে ভূমিধস এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পালখেদ এবং নন্দুর মধ্যমেশ্বর সহ বিভিন্ন বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গোদাবরী, কড়ভা এবং গিরনা নদীর তীরে বসবাসকারী লোকদের তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র, গবাদি পশু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
পুনে জেলার পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের মোশি এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের ওপর আবর্জনার পাহাড় ধসে পড়ায় ভবনটি ভেঙে পড়েছে। এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, ভবনটিতে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রশাসনিক কার্যালয় ছিল, যেটি পৌর সংস্থার পক্ষে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজ করে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রায়গড় জেলায়, উলহাস নদীর জল রেললাইনে উঠে আসায় নেরাল এবং কারজাত স্টেশনের মধ্যে ট্রেন চলাচল প্রায় এক ঘন্টার জন্য ব্যাহত হয়েছিল।
খারাপ আবহাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে মুম্বাইয়ে আসা নয়টি ফ্লাইটকে নিকটবর্তী বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে হয়েছিল। পরে সব ফ্লাইটই মুম্বাই বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। মুম্বাইয়ে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের কারণে শহরতলির লোকাল ট্রেনগুলি ২৫ থেকে ৩০ মিনিট দেরিতে চলে এবং অনেক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
পৌরসভার আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, ভারী বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে মুম্বাইয়ের পানীয় জলের উৎস সাতটি হ্রদের মধ্যে অন্যতম তুলসী হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করে। এর কয়েক ঘন্টা আগে বিহার হ্রদও উপচে পড়তে শুরু করে। আইএমডি মুম্বাই ও তার শহরতলিতে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment