কোলন ক্যান্সার (Colon Cancer) বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অন্যতম ক্যান্সার। এটি সাধারণত বৃহদান্ত্রের (Large Intestine) ভেতরের আবরণে ছোট পলিপ (Polyp) থেকে শুরু হয়। অধিকাংশ পলিপ নিরীহ হলেও, কিছু পলিপ সময়ের সঙ্গে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এই রোগের সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
কোলন ক্যান্সার কী?
কোলন বা বৃহদান্ত্র হলো পরিপাকতন্ত্রের শেষ অংশ, যেখানে খাবারের অবশিষ্টাংশ থেকে পানি শোষণ করা হয়। এই অংশের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে কোলন ক্যান্সার তৈরি হয়। যদি ক্যান্সার মলদ্বারেও (Rectum) ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার (Colorectal Cancer) বলা হয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
৫০ বছরের বেশি বয়সীরা (যদিও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে)
পরিবারের কারও কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে
দীর্ঘদিনের আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ থাকলে
স্থূলতা
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান
লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খাওয়া
কম আঁশযুক্ত খাদ্যাভ্যাস
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
ডায়াবেটিস
প্রধান লক্ষণ
কোলন ক্যান্সারের শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে নিচের উপসর্গগুলি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
মলের সঙ্গে রক্ত পড়া
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
পেটে ব্যথা, গ্যাস বা অস্বস্তি
মলত্যাগের পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
দুর্বলতা ও রক্তাল্পতা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা করার পর প্রয়োজনে নিচের পরীক্ষাগুলি করতে পারেন—
কোলোনোস্কোপি (Colonoscopy)
বায়োপসি
স্টুলে গোপন রক্তের পরীক্ষা (FOBT/FIT)
সিটি স্ক্যান বা এমআরআই
রক্ত পরীক্ষা
চিকিৎসা
রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচার
কেমোথেরাপি
রেডিয়েশন থেরাপি (বিশেষ করে রেক্টাল ক্যান্সারে)
টার্গেটেড থেরাপি
ইমিউনোথেরাপি (নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে)
প্রতিরোধের উপায়
প্রতিদিন শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খান।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে (বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) নিয়মিত কোলন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করুন।
পরিবারের ইতিহাস থাকলে আরও আগে থেকেই স্ক্রিনিং শুরু করা প্রয়োজন হতে পারে।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মলের সঙ্গে রক্ত পড়ে, মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যায়, অকারণে ওজন কমে যায় বা দীর্ঘদিন পেটের সমস্যা থাকে, তাহলে দেরি না করে গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ডিসক্লেইমার
এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ বা রোগ নির্ণয়ের বিকল্প নয়। কোলন ক্যান্সার বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সন্দেহ হলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। "Press Card News" এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া ব্যক্তিগত চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী থাকবে না।

No comments:
Post a Comment