শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য কোলেস্টেরল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শরীরে খারাপ (LDL) এবং মোট কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অনেকের ধারণা, রাতের খাবার বাদ দিলে দ্রুত ওজন কমে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাও হ্রাস পায়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ভর করে সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস, মোট ক্যালোরি গ্রহণ, শরীরের ওজন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং জীবনযাত্রার উপর। শুধু রাতের খাবার না খেলেই কোলেস্টেরল কমে যাবে—এমন ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতের খাবার হালকা খাওয়া উপকারী হতে পারে। যদি এর ফলে সারাদিনের মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরলের মাত্রা কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে এই সুফল সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না।
অন্যদিকে, না খেয়ে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে অনেকেই পরদিন অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া নিয়মিত রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতিও দেখা দিতে পারে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল, সবুজ শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন।
অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত (প্রসেসড) খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা, দৌড়, সাইকেল চালানো বা অন্য কোনো ব্যায়াম করুন।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
কোলেস্টেরল কমানোর জন্য রাতের খাবার বাদ দেওয়া কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কোনো ওষুধ বা খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

No comments:
Post a Comment